আর্থিক চাপে আমেরিকা, ইরান যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও থামেনি ইরান-আমেরিকা সংঘাত। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক চাপও সামলাতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে। যুদ্ধের ব্যয় যত বাড়ছে, ততই চাপ তৈরি হচ্ছে মার্কিন অর্থনীতিতে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম নির্বাচনের পরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান হতে পারে।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তাঁর ধারণা, নির্বাচনের পরই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, ইরান আর বেশি দিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না। একই সঙ্গে ট্রাম্পের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে তেহরান।
তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ট্রাম্পের এই আশাবাদের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করছেন তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা তাঁকে সতর্ক করেছেন—ইরান যুদ্ধ তাঁর বর্তমান মেয়াদের বাকি দুই বছর পর্যন্তও গড়াতে পারে।
এর মধ্যেই সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিবিএস’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পালটা হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের তালিকায় রয়েছে এ-১০ থান্ডারবোল্ট, যা ‘ওয়ার্থগ’ নামে পরিচিত, এবং প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান।
যুদ্ধের ব্যয় বাড়াচ্ছে উদ্বেগ
ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। একটি প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, হামলার প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই ওয়াশিংটনের খরচ হয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের শুরুর পর্যায়েই সাধারণত ব্যয়ের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। ইরান অভিযানে অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমা ব্যবহারের কারণে সেই খরচ আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্কট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (CSIS) হিসাব অনুযায়ী, শুধু প্যাট্রিয়টের মতো বিমান প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থাতেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার। এর বাইরে যুদ্ধবিমান ও আকাশপথে হামলা পরিচালনায় খরচ হয়েছে আরও প্রায় ১২৫ মিলিয়ন ডলার।
যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে এই ব্যয়ের বোঝা। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও এখন ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধ শেষ করার ট্রাম্পের ইঙ্গিত কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
























