‘মাননীয়’ বাদ, ডিজিটাল হাজিরায় প্রধানমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ বা ‘মাননীয়’সহ সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই কার্যকর করা শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু তাই নয়, দাপ্তরিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তিনিও দিচ্ছেন ডিজিটাল হাজিরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নথিপত্র ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রধানমন্ত্রী এদিন সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশের আগে তিনি ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা দেন বলে জানিয়েছেন কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও একই পদ্ধতিতে হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, সরকারি চিঠিপত্র, নথি ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সিদ্ধান্তটি শুধু সরকারি পরিপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজ কার্যালয় থেকেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে তাঁর কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের পরিবর্তে দায়িত্ব, জনসেবা ও জনগণের প্রতি জবাবদিহিকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি বার্তা হিসেবেই এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।
একইভাবে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতার ক্ষেত্রেও নিজের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা রাখছেন না প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় ডিজিটাল হাজিরা দেওয়ার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত নিয়ম তিনিও অনুসরণ করছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বাসসকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রটি ইতোমধ্যে সব মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, সরকারি চিঠিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথিতে পরিপত্রের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও নির্দেশনাটি প্রশাসনের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ জানান, পরিপত্রটি মাঠ প্রশাসনের সব পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বৃহস্পতিবার পাওয়া কয়েকটি সরকারি চিঠিপত্রেও এর বাস্তবায়ন দেখা গেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির আগে ‘মহামান্য’ এবং প্রধানমন্ত্রীর আগে ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার থেকেই পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়েছে। কোনো দপ্তরে এর ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও আনুষ্ঠানিক আড়ম্বর কমানোর ক্ষেত্রেও কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করা, প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া দেশে ও বিদেশে পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ও দায়িত্বকে সামনে রাখার একটি বার্তাই এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





















