ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্টে গোয়েন্দা যাচাই অযৌক্তিক: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অবসরের পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন করে গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন চাওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে দায়ের করা রিটের রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক ও তাঁদের স্ত্রীদের কোনো অতিরিক্ত গোয়েন্দা যাচাই ছাড়াই সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু ও হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত বলেন, বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রাষ্ট্র তাঁদের মর্যাদা ও পরিচয় যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়ে থাকে। ফলে অবসরের পর সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে তাঁদের আবার গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের মুখোমুখি করা অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।

রিট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাঁদের স্ত্রীদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিচারকের পদ থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়। আগে এ ধরনের সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুতে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রয়োজন ছিল না।

তবে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক স্মারকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারী ব্যক্তিদের সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার আগে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সন্তোষজনক প্রতিবেদন নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেন। কিন্তু গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার কারণে তাঁকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি। এতে তিনি বিদেশ ভ্রমণেও বাধার মুখে পড়েন।

পরে প্রশাসনিক এই বাধাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতিক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের প্রোটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের পর আদালত রুল জারি করেন। রুলের নিষ্পত্তি করে এবার এই রায় দেওয়া হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্টে গোয়েন্দা যাচাই অযৌক্তিক: হাইকোর্ট

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবসরের পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন করে গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন চাওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে দায়ের করা রিটের রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক ও তাঁদের স্ত্রীদের কোনো অতিরিক্ত গোয়েন্দা যাচাই ছাড়াই সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু ও হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত বলেন, বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রাষ্ট্র তাঁদের মর্যাদা ও পরিচয় যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়ে থাকে। ফলে অবসরের পর সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে তাঁদের আবার গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের মুখোমুখি করা অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।

রিট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাঁদের স্ত্রীদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিচারকের পদ থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়। আগে এ ধরনের সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুতে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রয়োজন ছিল না।

তবে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক স্মারকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারী ব্যক্তিদের সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার আগে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সন্তোষজনক প্রতিবেদন নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেন। কিন্তু গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার কারণে তাঁকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি। এতে তিনি বিদেশ ভ্রমণেও বাধার মুখে পড়েন।

পরে প্রশাসনিক এই বাধাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতিক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের প্রোটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের পর আদালত রুল জারি করেন। রুলের নিষ্পত্তি করে এবার এই রায় দেওয়া হলো।