ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইবার আইন’ হবে না গণমাধ্যম দমনের হাতিয়ার: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা ঠেকানো, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনপরিসরে নৈতিক অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ কোনোভাবেই মুক্তচিন্তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের দমনের হাতিয়ার হবে না।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আন্দালিভ রহমান বলেন, অতীতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে সতর্ক। নতুন আইনের কোনো ধারা বা শব্দ যেন ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে, সেজন্য খসড়াটি সতর্কতার সঙ্গে পরিমার্জন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতার নামে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন গালিগালাজ, সাইবার বুলিং ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ছে। এসব কর্মকাণ্ড সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একদিকে সামাজিক অবক্ষয় ঠেকানো, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির লক্ষ্যেই অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

মন্ত্রী জানান, শুধু কঠোর আইন করে সাইবার অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। অনলাইনে কোনো তথ্য বা পোস্টের সত্যতা যাচাই না করে মানহানিকর কনটেন্ট শেয়ার করাও যে অপরাধের আওতায় পড়তে পারে, সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে।

এর আগে পরামর্শ সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে আন্দালিভ রহমান বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন চূড়ান্ত করার আগে তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা জরুরি।

তিনি বলেন, একটি আইনের ভাষা মাঠপর্যায়ে কীভাবে প্রয়োগ হয় এবং কোথায় অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে, তা গণমাধ্যমকর্মীরাই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারেন। তাই আইনটি এমন হতে হবে, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী না হয়ে একে অন্যের পরিপূরক হয়।

গণমাধ্যম সম্পাদকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইন সংশোধনের পেছনে সরকারের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই। প্রস্তাবিত আইনের কোথাও অস্পষ্টতা বা জটিলতা থাকলে তা খোলামেলাভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধন প্রয়োজন। তবে আইনটি যাতে কোনোভাবেই অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে, সে বিষয়েও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশেও অনলাইন জালিয়াতি, সেক্সটোরশন, নারীদের ব্ল্যাকমেইলিং এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের মতো অপরাধ মোকাবিলায় সময়োপযোগী আইন প্রয়োজন। তবে অংশীজনদের মতামত নিয়ে আইনটি এমনভাবে পরিমার্জনের নির্দেশনা রয়েছে, যাতে এর অপব্যবহার বা নতুন কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়।

সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মুক্ত আলোচনায় বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে প্রণীত নিপীড়নমূলক আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল ও সংশোধনের উদ্যোগ ইতিবাচক। মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান এবং জামিন অযোগ্য ধারা বাদ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি স্বাগত জানান।

তবে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে নারী, শিশু ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হয়রানি কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না। একই সঙ্গে কোনো সরকারি সংস্থা নাগরিকদের সাইবার অধিকার লঙ্ঘন করলে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিধানও আইনে স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।

ডেইলি স্টারের কনসালটিং এডিটর কামাল আহমেদ আইনটির অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, শুধু শাস্তি বাড়ানোর পরিবর্তে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে জবাবদিহির ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সরাসরি শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা যেন অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে, সেদিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক ও সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদেরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। সভায় সাইবার সুরক্ষা (সংশোধিত) আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সাইবার আইন’ হবে না গণমাধ্যম দমনের হাতিয়ার: তথ্যমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা ঠেকানো, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনপরিসরে নৈতিক অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ কোনোভাবেই মুক্তচিন্তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের দমনের হাতিয়ার হবে না।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আন্দালিভ রহমান বলেন, অতীতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে সতর্ক। নতুন আইনের কোনো ধারা বা শব্দ যেন ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে, সেজন্য খসড়াটি সতর্কতার সঙ্গে পরিমার্জন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতার নামে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন গালিগালাজ, সাইবার বুলিং ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ছে। এসব কর্মকাণ্ড সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একদিকে সামাজিক অবক্ষয় ঠেকানো, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির লক্ষ্যেই অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

মন্ত্রী জানান, শুধু কঠোর আইন করে সাইবার অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। অনলাইনে কোনো তথ্য বা পোস্টের সত্যতা যাচাই না করে মানহানিকর কনটেন্ট শেয়ার করাও যে অপরাধের আওতায় পড়তে পারে, সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে।

এর আগে পরামর্শ সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে আন্দালিভ রহমান বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন চূড়ান্ত করার আগে তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা জরুরি।

তিনি বলেন, একটি আইনের ভাষা মাঠপর্যায়ে কীভাবে প্রয়োগ হয় এবং কোথায় অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে, তা গণমাধ্যমকর্মীরাই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারেন। তাই আইনটি এমন হতে হবে, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী না হয়ে একে অন্যের পরিপূরক হয়।

গণমাধ্যম সম্পাদকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আইন সংশোধনের পেছনে সরকারের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই। প্রস্তাবিত আইনের কোথাও অস্পষ্টতা বা জটিলতা থাকলে তা খোলামেলাভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধন প্রয়োজন। তবে আইনটি যাতে কোনোভাবেই অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে, সে বিষয়েও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশেও অনলাইন জালিয়াতি, সেক্সটোরশন, নারীদের ব্ল্যাকমেইলিং এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টের মতো অপরাধ মোকাবিলায় সময়োপযোগী আইন প্রয়োজন। তবে অংশীজনদের মতামত নিয়ে আইনটি এমনভাবে পরিমার্জনের নির্দেশনা রয়েছে, যাতে এর অপব্যবহার বা নতুন কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়।

সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মুক্ত আলোচনায় বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে প্রণীত নিপীড়নমূলক আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল ও সংশোধনের উদ্যোগ ইতিবাচক। মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান এবং জামিন অযোগ্য ধারা বাদ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি স্বাগত জানান।

তবে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে নারী, শিশু ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হয়রানি কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না। একই সঙ্গে কোনো সরকারি সংস্থা নাগরিকদের সাইবার অধিকার লঙ্ঘন করলে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিধানও আইনে স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।

ডেইলি স্টারের কনসালটিং এডিটর কামাল আহমেদ আইনটির অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, শুধু শাস্তি বাড়ানোর পরিবর্তে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে জবাবদিহির ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সরাসরি শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা যেন অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে, সেদিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক ও সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদেরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। সভায় সাইবার সুরক্ষা (সংশোধিত) আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান।