ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না তারেক রহমান, আমন্ত্রণ নিয়ে অসন্তুষ্ট ঢাকা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে নেয়নি বলেও জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বহুপক্ষীয় আয়োজনের তুলনায় দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সফর নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করতে চায় না সরকার।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে আমন্ত্রণপত্রে তাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ না করে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অভিহিত করা হয়। এবার সেই আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার অসন্তোষের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
গঙ্গার পানি বণ্টনেও জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, দেশের জাতীয় স্বার্থ যেখানে জড়িত, সেখানে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করবে। গণমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য এলেও বাংলাদেশের স্বার্থই সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান তিনি।
বাণিজ্যে আলোচনা চলছে
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে জানানোর মতো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা উল্লেখযোগ্য নতুন অগ্রগতি নেই।
রোহিঙ্গা সংকটে ধৈর্যের পাশাপাশি কূটনীতি
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এত জটিল একটি সংকটের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। সমাধানের জন্য ধৈর্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে।
দ্রুত সমাধান প্রত্যাশিত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সংকটের অবসান ঘটবে—এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়। তবে একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবভিত্তিক সমাধানের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী বলে জানান তিনি।























