র্যাব বিলুপ্ত, পুলিশের অধীনে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনে আইন পাস

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বিতর্কিত এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের আইন পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে স্পিকার মির্জা হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা ভোটে দেন। একই দিনে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
পুলিশের অধীনে নতুন কাঠামো
পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, এসআরবি সরাসরি বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। প্রেষণ ও সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এ ইউনিটের সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে। বাহিনীর থাকবে নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও স্বতন্ত্র পোশাক।
একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) অথবা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে নতুন এ ইউনিটকে। কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র রাখার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে তা নিষ্পত্তি এবং সার্বিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
দুই দশকের বিতর্কের অবসান
২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে র্যাব ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। আইনটিতে বিভিন্ন ত্রুটি ও সময়ের সঙ্গে পরিমার্জনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সময়োপযোগী পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই নতুন আইন করা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন আইনের মাধ্যমে আইনি অস্পষ্টতা দূর করার পাশাপাশি আইনটি সম্পূর্ণ বাংলায় রূপান্তর করা হয়েছে এবং বাহিনীকে একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে।
সংঘবদ্ধ অপরাধ ও জঙ্গিবাদ দমনের লক্ষ্য নিয়ে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে পরিকল্পিত এ বাহিনী ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ আত্মপ্রকাশ করে। একই বছরের ২১ জুন পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করে র্যাব।
তবে দুই দশকের পথচলায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগে বাহিনীটি দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে বিতর্কিত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সমালোচকরা একপর্যায়ে র্যাবকে ‘সরকারি ডেথ স্কোয়াড’ হিসেবেও আখ্যা দেন।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন এবং কক্সবাজারের কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যার ঘটনায় র্যাবের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তর র্যাবের সাবেক ও বর্তমান ছয় কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
দীর্ঘদিনের এসব বিতর্ক ও অভিযোগের পর র্যাবকে বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে নতুন কাঠামোতে এসআরবি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলো। নতুন আইনে বিশেষায়িত এই ইউনিটের ক্ষমতার পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তি ও জবাবদিহির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।























