ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কনক্লেভে এআই ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা ও একাডেমিক সততার ওপর জোর বাম চোখ লাফালেই কি অশুভ কিছু ঘটে? কী বলছে বিজ্ঞান ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান, ৫ হাজার কৃষি ও ৫ হাজার মৎস্য শ্রমিক টাঙ্গাইলে ১০ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে নতুন ডাকবাংলো পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে প্রান্তিক খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের আহ্বান টাঙ্গাইলে প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরস্কার বিতরণ ভেনিস কাণ্ডে কী বললেন অভিনেত্রী বাঁধন? লক্ষ্মীপুরে ৩৫৫ কেজি নকল ঘি জব্দ, লাখ টাকা জরিমানা জুলাই জাদুঘরে প্রামাণ্যচিত্র দেখে অশ্রুসিক্ত রাষ্ট্রপতি দুর্নীতির তদন্ত শেষ হলেই ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

বাম চোখ লাফালেই কি অশুভ কিছু ঘটে? কী বলছে বিজ্ঞান

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হঠাৎ বাম চোখের পাতা কেঁপে উঠলেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—কোনো অশুভ ঘটনা ঘটতে চলেছে না তো? প্রচলিত লোকবিশ্বাসে বাম চোখ লাফানোকে অনেক সময় খারাপ খবর বা বিপদের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা একেবারেই ভিন্ন।

বিজ্ঞান বলছে, চোখের পাতা কাঁপার সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ভালো বা খারাপ ঘটনা ঘটার সম্পর্ক নেই। বরং এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চোখের পাতার পেশির সাময়িক ও অনিচ্ছাকৃত সংকোচনের কারণে হয়ে থাকে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে চোখের পাতা অনিচ্ছাকৃতভাবে কাঁপা বা লাফানোকে ‘eyelid myokymia’ বলা হয়। সাধারণত এটি সাময়িক এবং গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয়।

কেন কাঁপে চোখের পাতা?

চোখের পাতা কাঁপার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি হলো ঘুমের ঘাটতি ও অতিরিক্ত ক্লান্তি। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, কম্পিউটার কিংবা অন্য কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও চোখে চাপ পড়ে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া আরও কিছু কারণ রয়েছে। যেমন—

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
অতিরিক্ত চা-কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ
চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া
দীর্ঘ সময় চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়া
পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব

অনেক সময় আবার কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন চোখের পাতা কাঁপতে পারে।

বাম চোখকে অশুভ মনে করা হয় কেন?

বাম চোখ লাফানোকে অশুভ মনে করার ধারণার পেছনে মূলত রয়েছে লোকবিশ্বাস ও কুসংস্কার। এর কোনো একক বা নির্দিষ্ট উৎস নেই।

প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সংস্কৃতিতে শরীরের অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়াকে ভবিষ্যতে ঘটতে যাওয়া কোনো ঘটনা বা ‘অমেন’—শুভ কিংবা অশুভ লক্ষণ—হিসেবে ব্যাখ্যা করার প্রচলন ছিল।

চীনা লোকবিশ্বাস, ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন লোকাচার এবং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু সংস্কৃতিতেও চোখ কাঁপা নিয়ে নানা ধরনের বিশ্বাস রয়েছে। তবে এসব বিশ্বাস এক নয়। কোথাও বাম চোখ লাফানোকে অশুভ ধরা হয়, আবার কোথাও এটিকেই শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কী বলছে বিজ্ঞান?

চোখের পাতা লাফানোর সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ঘটনা ঘটার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি সাধারণত চোখের পাতার পেশির সাময়িক অনিচ্ছাকৃত সংকোচন।

তাই বাম চোখ লাফালেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম, স্ক্রিন ব্যবহারের মাঝে নিয়মিত বিরতি এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন কমিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

তবে চোখের পাতা কাঁপার সমস্যা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, চোখের অন্য অংশেও অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া দেখা দেয়, চোখে ব্যথা বা লালভাব হয় কিংবা দৃষ্টিতে সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অর্থাৎ, বাম চোখ লাফানোকে ঘিরে শুভ-অশুভ নানা বিশ্বাস থাকলেও বিজ্ঞানের চোখে এটি ভবিষ্যতের কোনো বার্তা নয়; বেশিরভাগ সময় এটি শরীরের একটি সাময়িক স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাম চোখ লাফালেই কি অশুভ কিছু ঘটে? কী বলছে বিজ্ঞান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হঠাৎ বাম চোখের পাতা কেঁপে উঠলেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—কোনো অশুভ ঘটনা ঘটতে চলেছে না তো? প্রচলিত লোকবিশ্বাসে বাম চোখ লাফানোকে অনেক সময় খারাপ খবর বা বিপদের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা একেবারেই ভিন্ন।

বিজ্ঞান বলছে, চোখের পাতা কাঁপার সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ভালো বা খারাপ ঘটনা ঘটার সম্পর্ক নেই। বরং এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চোখের পাতার পেশির সাময়িক ও অনিচ্ছাকৃত সংকোচনের কারণে হয়ে থাকে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে চোখের পাতা অনিচ্ছাকৃতভাবে কাঁপা বা লাফানোকে ‘eyelid myokymia’ বলা হয়। সাধারণত এটি সাময়িক এবং গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয়।

কেন কাঁপে চোখের পাতা?

চোখের পাতা কাঁপার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি হলো ঘুমের ঘাটতি ও অতিরিক্ত ক্লান্তি। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, কম্পিউটার কিংবা অন্য কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও চোখে চাপ পড়ে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া আরও কিছু কারণ রয়েছে। যেমন—

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
অতিরিক্ত চা-কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ
চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া
দীর্ঘ সময় চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়া
পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব

অনেক সময় আবার কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন চোখের পাতা কাঁপতে পারে।

বাম চোখকে অশুভ মনে করা হয় কেন?

বাম চোখ লাফানোকে অশুভ মনে করার ধারণার পেছনে মূলত রয়েছে লোকবিশ্বাস ও কুসংস্কার। এর কোনো একক বা নির্দিষ্ট উৎস নেই।

প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সংস্কৃতিতে শরীরের অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়াকে ভবিষ্যতে ঘটতে যাওয়া কোনো ঘটনা বা ‘অমেন’—শুভ কিংবা অশুভ লক্ষণ—হিসেবে ব্যাখ্যা করার প্রচলন ছিল।

চীনা লোকবিশ্বাস, ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন লোকাচার এবং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু সংস্কৃতিতেও চোখ কাঁপা নিয়ে নানা ধরনের বিশ্বাস রয়েছে। তবে এসব বিশ্বাস এক নয়। কোথাও বাম চোখ লাফানোকে অশুভ ধরা হয়, আবার কোথাও এটিকেই শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কী বলছে বিজ্ঞান?

চোখের পাতা লাফানোর সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ঘটনা ঘটার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি সাধারণত চোখের পাতার পেশির সাময়িক অনিচ্ছাকৃত সংকোচন।

তাই বাম চোখ লাফালেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম, স্ক্রিন ব্যবহারের মাঝে নিয়মিত বিরতি এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন কমিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

তবে চোখের পাতা কাঁপার সমস্যা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, চোখের অন্য অংশেও অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া দেখা দেয়, চোখে ব্যথা বা লালভাব হয় কিংবা দৃষ্টিতে সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অর্থাৎ, বাম চোখ লাফানোকে ঘিরে শুভ-অশুভ নানা বিশ্বাস থাকলেও বিজ্ঞানের চোখে এটি ভবিষ্যতের কোনো বার্তা নয়; বেশিরভাগ সময় এটি শরীরের একটি সাময়িক স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।