ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই নেপালে মহাবিপর্যয়: হিমবাহ ধস থেকে কীভাবে নামল মৃত্যুর ঢল? বন্ধ কারখানা চালুতে ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ, ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ ঢাকার দায়িত্বে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আস্থার প্রতিফলন দেখছেন টাঙ্গাইলবাসী ৬৪ জেলার দেখভালে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ, ভাগ হলো দায়িত্ব মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে, যশোরে চাঞ্চল্য ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সংসদে রুমিনের তীব্র ক্ষোভ কালিহাতীতে দুই মিষ্টির দোকানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা শাহজাহান সিরাজ কলেজের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যমুনায়! পিকআপসহ চালক আটক নেপালের বন্যায় নিহতদের স্মরণে সংসদে শোক প্রস্তাব

ব্যবহৃত রাখি ডাস্টবিনে ফেলেন? ভুলেও নয়, জেনে নিন কী করা উচিত

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৬:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রক্ষাবন্ধন শুধু ভাই-বোনের হাতে একটি সুতো বাঁধার উৎসব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও আজীবন সম্পর্ক অটুট রাখার অঙ্গীকার। তাই রাখি বাঁধার পর সেটি খুলে ফেলার পর কী করা উচিত—এ নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে ব্যবহৃত রাখি কি সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া যায়, নাকি এর জন্য রয়েছে কোনো প্রচলিত রীতি?

বাস্তবে ব্যবহৃত রাখি সংরক্ষণ বা সরিয়ে ফেলার বিষয়ে সবার জন্য প্রযোজ্য কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় নিয়ম নেই। পরিবার, অঞ্চল ও প্রচলিত রীতিভেদে এর ভিন্নতা দেখা যায়।

অনেক হিন্দু পরিবারে রাখিকে কেবল একটি সুতো হিসেবে দেখা হয় না। ভাইয়ের হাতে বাঁধা এই রাখির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বোনের প্রার্থনা, ভালোবাসা ও ভাইয়ের মঙ্গল কামনা। তাই অনেকেই এটিকে সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে না ফেলে সম্মানের সঙ্গে সরিয়ে রাখেন।

কয়েক দিন হাতে রাখেন অনেকে

অনেক পরিবারে রক্ষাবন্ধনের দিনই রাখি খুলে ফেলা হয় না। কয়েক দিন হাতে রাখার পর সুবিধামতো সেটি খোলা হয়। এরপর কেউ কেউ রাখিটি ঠাকুরঘরে বা বাড়ির পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট কোনো স্থানে রেখে দেন।

কিছু পরিবার আবার পুরনো রাখি কিছুদিন সংরক্ষণ করার পর নিজেদের পারিবারিক রীতি অনুযায়ী তা সরিয়ে ফেলেন বা বিসর্জন দেন। অর্থাৎ ব্যবহৃত রাখি নিয়ে একক কোনো নিয়ম না থাকলেও যত্ন ও শ্রদ্ধার সঙ্গে রাখার রীতিই অনেক পরিবারের মধ্যে প্রচলিত।

পরিবেশের কথাও ভাবুন

ব্যবহৃত রাখি ফেলার ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে অনেক রাখিতে প্লাস্টিকের ফুল, সিনথেটিক সুতো, পুঁতি বা অন্যান্য জৈব অবিয়োজ্য উপাদান ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদান সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দিলে সহজে মাটিতে মিশে যায় না এবং পরিবেশদূষণের কারণ হতে পারে।

তাই রাখিতে যদি প্লাস্টিক বা অন্য কোনো অজৈব উপাদান থাকে, সেগুলো আলাদা করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বা নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা যেতে পারে। আর সম্ভব হলে ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব উপকরণে তৈরি রাখি ব্যবহার করাও ভালো।

ভালোবাসার প্রতীক, তাই যত্নে রাখাই শ্রেয়

সবশেষে মনে রাখা দরকার, রাখির মূল মূল্য তার উপকরণে নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সম্পর্কের অনুভূতিতে। একটি পুরনো সুতো হয়তো আর হাতে পরার মতো নেই, কিন্তু সেটি ভাই-বোনের ভালোবাসা ও শুভকামনার স্মৃতি বহন করে।

তাই ব্যবহৃত রাখি সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে পরিষ্কার ও সম্মানজনক স্থানে কিছুদিন সংরক্ষণ করা যেতে পারে। পরে পরিবারের প্রচলিত রীতি বা পরিবেশসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে সেটি সরিয়ে ফেলাই ভালো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ব্যবহৃত রাখি ডাস্টবিনে ফেলেন? ভুলেও নয়, জেনে নিন কী করা উচিত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৬:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

রক্ষাবন্ধন শুধু ভাই-বোনের হাতে একটি সুতো বাঁধার উৎসব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও আজীবন সম্পর্ক অটুট রাখার অঙ্গীকার। তাই রাখি বাঁধার পর সেটি খুলে ফেলার পর কী করা উচিত—এ নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে ব্যবহৃত রাখি কি সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া যায়, নাকি এর জন্য রয়েছে কোনো প্রচলিত রীতি?

বাস্তবে ব্যবহৃত রাখি সংরক্ষণ বা সরিয়ে ফেলার বিষয়ে সবার জন্য প্রযোজ্য কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় নিয়ম নেই। পরিবার, অঞ্চল ও প্রচলিত রীতিভেদে এর ভিন্নতা দেখা যায়।

অনেক হিন্দু পরিবারে রাখিকে কেবল একটি সুতো হিসেবে দেখা হয় না। ভাইয়ের হাতে বাঁধা এই রাখির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বোনের প্রার্থনা, ভালোবাসা ও ভাইয়ের মঙ্গল কামনা। তাই অনেকেই এটিকে সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে না ফেলে সম্মানের সঙ্গে সরিয়ে রাখেন।

কয়েক দিন হাতে রাখেন অনেকে

অনেক পরিবারে রক্ষাবন্ধনের দিনই রাখি খুলে ফেলা হয় না। কয়েক দিন হাতে রাখার পর সুবিধামতো সেটি খোলা হয়। এরপর কেউ কেউ রাখিটি ঠাকুরঘরে বা বাড়ির পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট কোনো স্থানে রেখে দেন।

কিছু পরিবার আবার পুরনো রাখি কিছুদিন সংরক্ষণ করার পর নিজেদের পারিবারিক রীতি অনুযায়ী তা সরিয়ে ফেলেন বা বিসর্জন দেন। অর্থাৎ ব্যবহৃত রাখি নিয়ে একক কোনো নিয়ম না থাকলেও যত্ন ও শ্রদ্ধার সঙ্গে রাখার রীতিই অনেক পরিবারের মধ্যে প্রচলিত।

পরিবেশের কথাও ভাবুন

ব্যবহৃত রাখি ফেলার ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে অনেক রাখিতে প্লাস্টিকের ফুল, সিনথেটিক সুতো, পুঁতি বা অন্যান্য জৈব অবিয়োজ্য উপাদান ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদান সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দিলে সহজে মাটিতে মিশে যায় না এবং পরিবেশদূষণের কারণ হতে পারে।

তাই রাখিতে যদি প্লাস্টিক বা অন্য কোনো অজৈব উপাদান থাকে, সেগুলো আলাদা করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বা নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা যেতে পারে। আর সম্ভব হলে ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব উপকরণে তৈরি রাখি ব্যবহার করাও ভালো।

ভালোবাসার প্রতীক, তাই যত্নে রাখাই শ্রেয়

সবশেষে মনে রাখা দরকার, রাখির মূল মূল্য তার উপকরণে নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সম্পর্কের অনুভূতিতে। একটি পুরনো সুতো হয়তো আর হাতে পরার মতো নেই, কিন্তু সেটি ভাই-বোনের ভালোবাসা ও শুভকামনার স্মৃতি বহন করে।

তাই ব্যবহৃত রাখি সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে পরিষ্কার ও সম্মানজনক স্থানে কিছুদিন সংরক্ষণ করা যেতে পারে। পরে পরিবারের প্রচলিত রীতি বা পরিবেশসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে সেটি সরিয়ে ফেলাই ভালো।