ঢাকা ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই নেপালে মহাবিপর্যয়: হিমবাহ ধস থেকে কীভাবে নামল মৃত্যুর ঢল? বন্ধ কারখানা চালুতে ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ, ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ ঢাকার দায়িত্বে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আস্থার প্রতিফলন দেখছেন টাঙ্গাইলবাসী ৬৪ জেলার দেখভালে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ, ভাগ হলো দায়িত্ব মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে, যশোরে চাঞ্চল্য ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে সংসদে রুমিনের তীব্র ক্ষোভ কালিহাতীতে দুই মিষ্টির দোকানে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা শাহজাহান সিরাজ কলেজের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যমুনায়! পিকআপসহ চালক আটক নেপালের বন্যায় নিহতদের স্মরণে সংসদে শোক প্রস্তাব

বিশ্বকাপে মেসিকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি, নিশানায় ছিলেন রোনাল্ডোও

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে একাধিক বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে ফাঁস হওয়া পুলিশি নথিতে দাবি করা হয়েছে। ওই হুমকির পর পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে মেসির নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্পেনের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই এবং ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোঅপারেশন সেন্টারের নথিতে বন্দুক ও বিস্ফোরক নিয়ে স্টেডিয়ামে হামলার পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ জুলাই আটলান্টায় আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘চারটি বোমা শরীরে বেঁধে স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে উড়িয়ে দেওয়া হবে।’ একই সময়ে ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ও তার দুই সহযোগী ঘরে তৈরি বোমা এবং একটি এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল পুলিশ সদস্য ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলা চালানো, যেখানে মেসির নামও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ম্যাচ চলাকালে আরেকটি ফোনে স্টেডিয়ামের ডাস্টবিনে তিনটি বোমা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে পুরো স্টেডিয়াম এলাকায় তল্লাশি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। তবে এসব হুমকির কোনোটি বাস্তবে হামলায় রূপ নেয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। হিউস্টনে তার অবস্থানরত হোটেলের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়। পরে টরন্টোতে আরেক ব্যক্তি রোনাল্ডোর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে তাকেও আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, রোনাল্ডোর সঙ্গে শুধু একটি সেলফি তুলতেই সেখানে গিয়েছিলেন।

শুধু মেসি বা রোনাল্ডো নন, ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপেও অনলাইনে বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্যারাগুয়েতে তার প্রতিকৃতি সংবলিত একটি পুতুলে আগুন দিয়ে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

এদিকে আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের হোয়াটসঅ্যাপে ছয় হাজারের বেশি হুমকির বার্তা পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ফ্রান্সে তার পরিবারের নিরাপত্তায়ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর পরিবারের একটি সুপারমার্কেটে বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে রেখে যাওয়া একটি বার্তায় লেখা ছিল, ‘মেসি, আমরা তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিশ্বকাপে মেসিকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি, নিশানায় ছিলেন রোনাল্ডোও

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে একাধিক বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে ফাঁস হওয়া পুলিশি নথিতে দাবি করা হয়েছে। ওই হুমকির পর পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে মেসির নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্পেনের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই এবং ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোঅপারেশন সেন্টারের নথিতে বন্দুক ও বিস্ফোরক নিয়ে স্টেডিয়ামে হামলার পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ জুলাই আটলান্টায় আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘চারটি বোমা শরীরে বেঁধে স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে উড়িয়ে দেওয়া হবে।’ একই সময়ে ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ও তার দুই সহযোগী ঘরে তৈরি বোমা এবং একটি এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল পুলিশ সদস্য ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলা চালানো, যেখানে মেসির নামও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ম্যাচ চলাকালে আরেকটি ফোনে স্টেডিয়ামের ডাস্টবিনে তিনটি বোমা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে পুরো স্টেডিয়াম এলাকায় তল্লাশি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। তবে এসব হুমকির কোনোটি বাস্তবে হামলায় রূপ নেয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। হিউস্টনে তার অবস্থানরত হোটেলের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়। পরে টরন্টোতে আরেক ব্যক্তি রোনাল্ডোর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে তাকেও আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, রোনাল্ডোর সঙ্গে শুধু একটি সেলফি তুলতেই সেখানে গিয়েছিলেন।

শুধু মেসি বা রোনাল্ডো নন, ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপেও অনলাইনে বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্যারাগুয়েতে তার প্রতিকৃতি সংবলিত একটি পুতুলে আগুন দিয়ে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

এদিকে আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের হোয়াটসঅ্যাপে ছয় হাজারের বেশি হুমকির বার্তা পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ফ্রান্সে তার পরিবারের নিরাপত্তায়ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর পরিবারের একটি সুপারমার্কেটে বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে রেখে যাওয়া একটি বার্তায় লেখা ছিল, ‘মেসি, আমরা তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।’