ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলে গেল জুলাই জাদুঘর, দিনে প্রবেশ করতে পারবেন ৯০০ দর্শনার্থী নতুন করে ১০ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা, তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে আড়িয়াল বিলের পাঁচ প্রজাতির দেশীয় মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি কই মাছে সিলেটের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের কেউ আত্মগোপনে, কেউ বিদেশে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদমাধ্যমে বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ বাংলাদেশের জামিনে থাকা অবস্থায় নির্বাচনী জয়, রুখসার আহমেদকে ঘিরে বিতর্ক টাঙ্গাইলে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন বাংলাদেশে চালু হচ্ছে বিশ্বখ্যাত থাই কফি চেইন ‘ক্যাফে আমাজন’ আ ‘লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সম্ভবত আর শেখ হাসিনাকে রাখতে চায় না

আড়িয়াল বিলের পাঁচ প্রজাতির দেশীয় মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি কই মাছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আড়িয়াল বিলের দেশীয় ছোট মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। গবেষণায় পাঁচ প্রজাতির মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে কই মাছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে এসব মাছ খেয়ে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্য, জলজ বাস্তুতন্ত্র ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য এটি উদ্বেগের বিষয়।

গবেষণার প্রধান গবেষক এবং বাকৃবির ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান জানান, আড়িয়াল বিলের গাদীঘাট, বসুরোলা ডেঙ্গা, সাগর ডেঙ্গা, বড়াইখালী ও আলমপুর এলাকা থেকে ২০২৪ সালের বর্ষা, ২০২৪-২৫ সালের শীত এবং ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে পানি, পলিমাটি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত মাছ ছিল কই, বাটা, মেনি (ভেদা/নান্দিনা), গুলশা টেংরা ও পুঁটি।

গবেষণায় দেখা গেছে, সর্বভুক স্বভাবের কারণে কই মাছে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হয়েছে। তিন মৌসুমেই কই মাছের মাংসপেশিতে গড়ে প্রায় একটি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্ত্রে গড়ে ১.৭০ থেকে ১.৯০টি এবং ফুলকায় ১.৩০ থেকে ১.৪০টি কণা শনাক্ত হয়েছে।

কই মাছের পর সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বাটা মাছে। এরপর রয়েছে মেনি ও গুলশা টেংরা। সবচেয়ে কম শনাক্ত হয়েছে পুঁটি মাছে। তৃণভোজী বাটা মাছের অন্ত্রে বর্ষা মৌসুমে গড়ে সর্বোচ্চ ১.৫০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মাংসপেশিতে তিন মৌসুমেই প্রায় একই মাত্রায় (০.৮০ থেকে ০.৯০টি) কণা শনাক্ত হয়েছে।

মেনি মাছের অন্ত্রে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে তুলনামূলক বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। তবে মাংসপেশিতে এর পরিমাণ ছিল ০.৬০ থেকে ০.৭০টি কণার মধ্যে। একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে গুলশা টেংরায়। এ মাছের অন্ত্রে শীত মৌসুমে সর্বোচ্চ ১.৩০টি কণা এবং মাংসপেশিতে ০.৫০ থেকে ০.৮০টি কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে পুঁটি মাছের মাংসপেশিতে মাত্র ০.৫০ থেকে ০.৫১টি কণা শনাক্ত হয়েছে, যা গবেষণায় সর্বনিম্ন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতি লিটার পানিতে ১১ থেকে ৩১.৬৭টি এবং প্রতি কেজি পলিমাটিতে ১২.৩৩ থেকে ১২৭.৩৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানিতে দূষণের মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি।

ড. শাহজাহান জানান, ফোরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটি-আইআর) স্পেকট্রোস্কোপি পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া কণার ৩৪ থেকে ৬৩ শতাংশই ছিল মাইক্রোফাইবার। এসব কণার প্রধান উৎস হিসেবে কাপড় ধোয়ার সময় নির্গত কৃত্রিম তন্তু, গৃহস্থালির বর্জ্যপানি এবং মাছ ধরার প্লাস্টিক জালকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙা শক্ত প্লাস্টিক, পলিথিনের ফিল্ম ও ফোমজাতীয় কণাও পাওয়া গেছে।

রাসায়নিক বিশ্লেষণে পলিইথিলিন (পিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিস্টাইরিন (পিএস), পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) এবং পলিকার্বোনেট (পিসি) শনাক্ত হয়েছে। এসব উপাদান সাধারণত প্লাস্টিক ব্যাগ, বোতল, মোড়ক, প্যাকেজিং সামগ্রী ও বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যে ব্যবহৃত হয়।

গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে অধ্যাপক ড. শাহজাহান বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে উৎস থেকেই প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন পরিবেশের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। আড়িয়াল বিলের মাছের অন্ত্রের পাশাপাশি মাংসপেশিতেও এর উপস্থিতি পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষ্য, বর্তমানে এসব মাছ খাওয়ার ফলে সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকির সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই। তবে দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমতে থাকলে ভবিষ্যতে এর বিরূপ প্রভাব দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব হয়তো পাঁচ বা দশ বছরে নয়, ২৫ থেকে ৩০ বছর পর কিংবা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও প্রকাশ পেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আড়িয়াল বিলের পাঁচ প্রজাতির দেশীয় মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি কই মাছে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

আড়িয়াল বিলের দেশীয় ছোট মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। গবেষণায় পাঁচ প্রজাতির মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে কই মাছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে এসব মাছ খেয়ে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্য, জলজ বাস্তুতন্ত্র ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য এটি উদ্বেগের বিষয়।

গবেষণার প্রধান গবেষক এবং বাকৃবির ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান জানান, আড়িয়াল বিলের গাদীঘাট, বসুরোলা ডেঙ্গা, সাগর ডেঙ্গা, বড়াইখালী ও আলমপুর এলাকা থেকে ২০২৪ সালের বর্ষা, ২০২৪-২৫ সালের শীত এবং ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে পানি, পলিমাটি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত মাছ ছিল কই, বাটা, মেনি (ভেদা/নান্দিনা), গুলশা টেংরা ও পুঁটি।

গবেষণায় দেখা গেছে, সর্বভুক স্বভাবের কারণে কই মাছে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হয়েছে। তিন মৌসুমেই কই মাছের মাংসপেশিতে গড়ে প্রায় একটি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্ত্রে গড়ে ১.৭০ থেকে ১.৯০টি এবং ফুলকায় ১.৩০ থেকে ১.৪০টি কণা শনাক্ত হয়েছে।

কই মাছের পর সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বাটা মাছে। এরপর রয়েছে মেনি ও গুলশা টেংরা। সবচেয়ে কম শনাক্ত হয়েছে পুঁটি মাছে। তৃণভোজী বাটা মাছের অন্ত্রে বর্ষা মৌসুমে গড়ে সর্বোচ্চ ১.৫০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মাংসপেশিতে তিন মৌসুমেই প্রায় একই মাত্রায় (০.৮০ থেকে ০.৯০টি) কণা শনাক্ত হয়েছে।

মেনি মাছের অন্ত্রে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে তুলনামূলক বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। তবে মাংসপেশিতে এর পরিমাণ ছিল ০.৬০ থেকে ০.৭০টি কণার মধ্যে। একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে গুলশা টেংরায়। এ মাছের অন্ত্রে শীত মৌসুমে সর্বোচ্চ ১.৩০টি কণা এবং মাংসপেশিতে ০.৫০ থেকে ০.৮০টি কণা পাওয়া গেছে। অন্যদিকে পুঁটি মাছের মাংসপেশিতে মাত্র ০.৫০ থেকে ০.৫১টি কণা শনাক্ত হয়েছে, যা গবেষণায় সর্বনিম্ন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতি লিটার পানিতে ১১ থেকে ৩১.৬৭টি এবং প্রতি কেজি পলিমাটিতে ১২.৩৩ থেকে ১২৭.৩৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানিতে দূষণের মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি।

ড. শাহজাহান জানান, ফোরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটি-আইআর) স্পেকট্রোস্কোপি পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া কণার ৩৪ থেকে ৬৩ শতাংশই ছিল মাইক্রোফাইবার। এসব কণার প্রধান উৎস হিসেবে কাপড় ধোয়ার সময় নির্গত কৃত্রিম তন্তু, গৃহস্থালির বর্জ্যপানি এবং মাছ ধরার প্লাস্টিক জালকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙা শক্ত প্লাস্টিক, পলিথিনের ফিল্ম ও ফোমজাতীয় কণাও পাওয়া গেছে।

রাসায়নিক বিশ্লেষণে পলিইথিলিন (পিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিস্টাইরিন (পিএস), পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) এবং পলিকার্বোনেট (পিসি) শনাক্ত হয়েছে। এসব উপাদান সাধারণত প্লাস্টিক ব্যাগ, বোতল, মোড়ক, প্যাকেজিং সামগ্রী ও বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যে ব্যবহৃত হয়।

গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে অধ্যাপক ড. শাহজাহান বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে উৎস থেকেই প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন পরিবেশের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। আড়িয়াল বিলের মাছের অন্ত্রের পাশাপাশি মাংসপেশিতেও এর উপস্থিতি পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষ্য, বর্তমানে এসব মাছ খাওয়ার ফলে সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকির সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই। তবে দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমতে থাকলে ভবিষ্যতে এর বিরূপ প্রভাব দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব হয়তো পাঁচ বা দশ বছরে নয়, ২৫ থেকে ৩০ বছর পর কিংবা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও প্রকাশ পেতে পারে।