খুলে গেল জুলাই জাদুঘর, দিনে প্রবেশ করতে পারবেন ৯০০ দর্শনার্থী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে দর্শনার্থীরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন।
জাদুঘরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদ ও আহতদের স্মৃতি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, ঐতিহাসিক দলিল, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্রদর্শনী স্থান পেয়েছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার প্রথম দিনের ৯০০টি টিকিট উদ্বোধনের আগের দিন বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৪টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। এর আগে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
তিনটি স্লটে প্রবেশের সুযোগ
দর্শনার্থীদের সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন তিনটি পৃথক সময়সূচিতে জাদুঘরের মূল ভবনে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি স্লটে সর্বোচ্চ ৩০০ জন করে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন। ফলে প্রতিদিন মোট ৯০০ জন মূল ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
সময়সূচি অনুযায়ী—
- মর্নিং স্লট: সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা
- মিড-ডে স্লট: দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা
- ইভিনিং স্লট: বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টিকিটে উল্লেখিত নির্ধারিত সময়েই কেবল মূল ভবনে প্রবেশ করা যাবে। অনলাইনের পাশাপাশি জাদুঘরের কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে।
টিকিটের মূল্য
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় অনুযায়ী আগাম টিকিট বুকিং করতে হবে। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে দর্শনার্থীদের পরবর্তী দিনের খালি স্লট নির্বাচন করতে হবে।
কেন সীমিত প্রবেশ?
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব বলেন, উদ্বোধনের পরপরই বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে প্রাথমিকভাবে সময়ভিত্তিক ও সীমিত সংখ্যক দর্শনার্থীর প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।
উদ্বোধনের দিন যা ঘটেছিল
এর আগে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছিলেন, উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
তবে বুধবার উদ্বোধনের দিন টানা বৃষ্টির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক মানুষ জাদুঘরের মূল ফটকের সামনে জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গেট না খোলায় একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা, আহত আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্য গেটে ধাক্কা দিয়ে তালা ভেঙে জাদুঘরে প্রবেশ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দর্শনার্থী আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় বৃষ্টিতে অপেক্ষা করার পরও নির্ধারিত সময়ে প্রবেশের সুযোগ না পাওয়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তাঁর দাবি, সময়মতো গেট খুলে দেওয়া হলে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না। পরে কয়েকজন আন্দোলনকারী উপস্থিত দর্শনার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।


















