৭ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত এমপি গোলাম রসুল

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে বিরোধের জের ধরে নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অনন্যাকে দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের যৌথ হস্তক্ষেপে তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নীলগঞ্জ এলাকায় এমপি গোলাম রসুলের বাড়ির সামনে ‘আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ’ ও একটি মসজিদ রয়েছে। অভিযোগ ওঠে, মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও উচ্চস্বরে পড়ালেখা মেনে নিতে পারছিলেন না এমপির মেয়ে অনন্যা। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বকাঝকা ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা ঘটলে সোমবার পুলিশের মধ্যস্থতায় একটি মীমাংসা হয়। তবে আজ মঙ্গলবার সকালে এমপি ও তার মেয়ে পুনরায় মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে এমপির মেয়ে অনন্যা রেক্সনা নামে এক নারী অভিভাবকের মাথা ফাটিয়ে দেন এবং নাসির উদ্দিন নামে এক শিক্ষকের ওপর চড়াও হয়ে তার সাইকেল ফেলে দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং এমপির বাসভবন ঘেরাও করে হামলা চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ে ভবনের মূল ফটক বন্ধ করে ভেতরে নিজেদের অবরুদ্ধ করে ফেলেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই বাড়ি ঘিরে রাখে। সন্ধ্যা ৬টার পর পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে যান। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সাথে মধ্যস্থতা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পর এমপি ও তার মেয়েকে অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
এদিকে এমপি গোলাম রসুলকে অবরুদ্ধ করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস বলেন, পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে বিদ্যমান সমস্যাটির একটি আশু সমাধান হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামীকাল তাঁর কার্যালয়ে অভিভাবক ও ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
তবে, আমাদের সংসদ সদস্য (এমপি) সারাদিন অবরুদ্ধ ছিলেন। প্রশাসন যদি শুরুতেই কার্যকর উদ্যোগ নিত, তবে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
তারপরও প্রশাসন পরবর্তীতে এসে পদক্ষেপ নিয়েছে, সে জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু যারা সারাদিন অবরুদ্ধ অবস্থায় কাটালেন, সেই পরিস্থিতির জন্য আমরা ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছি।
যশোর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, এই মাদ্রাসায় ছোট ছোট বাচ্চারা পড়ে, তাদের অভিভাবকরা এখানে আসেন। এটি একটি সংকীর্ণ (ন্যারো) রাস্তা, তারা হয়তো এখানেই অবস্থান করেন। এই এলাকার যারা স্থায়ী বাসিন্দা বা বাড়ির মালিক, তারা অনেক সময় বিষয়টিকে সমস্যা মনে করেন; যেহেতু ছোট বাচ্চারা এখানে খেলাধুলা করে। এটি নিয়েই মূলত তাদের মধ্যে একটি উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। গতকাল এর একটি সমাধান হলেও পরবর্তীতে ভুল বোঝাবুঝির কারণে পুনরায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। আমাদের পুলিশের অফিসাররা আছেন, বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতৃবৃন্দসহ সবাই উপস্থিত আছেন। আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, অভিভাবকদের প্রতিনিধি এবং এলাকার বাড়ির মালিক যারা সমস্যা বোধ করছেন, তাদের সাথে কথা বলেছি।
আগামীকাল আমরা একসাথে বসে আলোচনা করে একটি স্থায়ী সমাধান বের করব। কারণ, মাদ্রাসাটিকেও যেমন এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তেমনি এলাকার বাড়ির মালিকদের সমস্যাটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে এটি খুব বড় কোনো বিষয় নয়। বর্তমানে কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে দুইজন মানুষের পাশাপাশি আরও উৎসুক জনতা এসে ভিড় জমায়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
আশা করছি, আগামীকাল থেকে আর কোনো সমস্যা থাকবে না এবং আমরা একটি সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছাতে পারব।

























