ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সয়াবিন তেলেও মাইক্রোপ্লাস্টিক, লিটারে মিলল ৫৪ হাজার প্লাস্টিক কণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর বাজারে বিক্রি হওয়া বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা রয়েছে। গবেষকদের মতে, বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা বাজারের সয়াবিন তেলে এই দূষণের মাত্রা আরও বেশি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার অংশ হিসেবে ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ এবং খোলা বাজার থেকে সয়াবিন তেলের ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করে আধুনিক রাসায়নিক বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, খোলা সয়াবিন তেলে বোতলজাত তেলের তুলনায় অন্তত ১ দশমিক ২৪ গুণ বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। খোলা তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তেজগাঁও এলাকার নমুনাগুলোতে দূষণের মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি।

ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণে নমুনাগুলোতে লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই), পলিপ্রোপিলিন, নাইলনসহ ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, ভোজ্যতেলে নাইলন ও পলিইউরেথেনের উপস্থিতি এই প্রথম কোনো গবেষণায় শনাক্ত হলো। এছাড়া শনাক্ত হওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রায় ৮২ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল আঁশ বা ফাইবারজাতীয়।

গবেষণার প্রাক্কলন অনুযায়ী, সয়াবিন তেল ব্যবহারের মাধ্যমে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন গড়ে ১৭টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। অন্যদিকে, শরীরের ওজন তুলনামূলক কম হওয়ায় শিশুদের ঝুঁকি আরও বেশি। গবেষকদের হিসাবে, একজন শিশু প্রতিদিন গড়ে ৭৭টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছে।

চিকিৎসকদের মতে, ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট এসব প্লাস্টিক কণা রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে পরিপাকতন্ত্র, হরমোনের ভারসাম্য এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণা দলের প্রধান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের প্রজননতন্ত্র ও বিপাকীয় ব্যবস্থার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে প্লাস্টিক বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে কঠোর নজরদারি এবং খোলা ভোজ্যতেল বিক্রিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সয়াবিন তেলেও মাইক্রোপ্লাস্টিক, লিটারে মিলল ৫৪ হাজার প্লাস্টিক কণা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর বাজারে বিক্রি হওয়া বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা রয়েছে। গবেষকদের মতে, বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা বাজারের সয়াবিন তেলে এই দূষণের মাত্রা আরও বেশি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার অংশ হিসেবে ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ এবং খোলা বাজার থেকে সয়াবিন তেলের ৬০টি নমুনা সংগ্রহ করে আধুনিক রাসায়নিক বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, খোলা সয়াবিন তেলে বোতলজাত তেলের তুলনায় অন্তত ১ দশমিক ২৪ গুণ বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। খোলা তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তেজগাঁও এলাকার নমুনাগুলোতে দূষণের মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি।

ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণে নমুনাগুলোতে লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই), পলিপ্রোপিলিন, নাইলনসহ ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, ভোজ্যতেলে নাইলন ও পলিইউরেথেনের উপস্থিতি এই প্রথম কোনো গবেষণায় শনাক্ত হলো। এছাড়া শনাক্ত হওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রায় ৮২ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল আঁশ বা ফাইবারজাতীয়।

গবেষণার প্রাক্কলন অনুযায়ী, সয়াবিন তেল ব্যবহারের মাধ্যমে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রতিদিন গড়ে ১৭টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশ করছে। অন্যদিকে, শরীরের ওজন তুলনামূলক কম হওয়ায় শিশুদের ঝুঁকি আরও বেশি। গবেষকদের হিসাবে, একজন শিশু প্রতিদিন গড়ে ৭৭টি এবং বছরে প্রায় ২৮ হাজার ১৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করছে।

চিকিৎসকদের মতে, ১৩০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট এসব প্লাস্টিক কণা রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে পরিপাকতন্ত্র, হরমোনের ভারসাম্য এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণা দলের প্রধান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহের প্রজননতন্ত্র ও বিপাকীয় ব্যবস্থার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে প্লাস্টিক বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে কঠোর নজরদারি এবং খোলা ভোজ্যতেল বিক্রিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।