জনসনের বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি, ৫৫০ কোটি ডলারে সমঝোতা!

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বেবি পাউডারে ব্যবহৃত ট্যাল্ক ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করেছে—এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দায়ের হওয়া হাজারো মামলার নিষ্পত্তিতে ৫৫০ কোটি ডলারের সমঝোতা প্রস্তাবে রাজি হয়েছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন। ভারতীয় মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা। সোমবার (২৭ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৬৯ হাজার মামলা এই সমঝোতার আওতায় আসবে। এর মাধ্যমে দেশটিতে বেবি পাউডার–সংক্রান্ত প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডারের প্রধান উপাদান ট্যাল্ক। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, এই খনিজ উপাদান ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ট্যাল্ককে মানুষের জন্য ‘সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ উপাদান হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। তবে শুরু থেকেই জনসন অ্যান্ড জনসন দাবি করে আসছে, তাদের ট্যাল্কভিত্তিক পণ্য ক্যানসারের কারণ—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
বিতর্কের জেরে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
ট্যাল্ক–সংক্রান্ত অভিযোগ প্রথম বড় আকারে সামনে আসে ২০১৬ সালে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক নারীর ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে মৃত্যুর ঘটনায় আদালত জনসন অ্যান্ড জনসনকে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও পরের বছর সেই রায় বাতিল হয়ে যায়। এরপরও দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদালতের রায় মামলাকারীদের পক্ষেই যায়।
জনসন অ্যান্ড জনসনের মামলাবিষয়ক প্রধান এরিক হাস বলেন, এই সমঝোতা দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার ভাষ্য, এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের একটি ইতিবাচক সমাধান হতে পারে এই উদ্যোগ।
তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বর্তমানে চলমান সব মামলা এই সমঝোতার আওতায় আসবে না। সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়ের হওয়া একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটি জানত তাদের ট্যাল্কভিত্তিক পণ্য ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ও মেসোথেলিওমাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তা সত্ত্বেও পণ্যটির বিক্রি অব্যাহত রাখা হয়। যদিও এসব অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে জনসন অ্যান্ড জনসন।





















