সাক্ষরতা দিবস আজ
১৮ বছরেও পূরণ হয়নি নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের ১৮ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো দেশের ২২ শতাংশের বেশি মানুষ লিখতে-পড়তে পারেন না। ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে ২০১৪ সালের মধ্যে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের এক যুগ পরও সেই লক্ষ্য অধরা।
সরকারি হিসাবে, ২০২৬ সালের শেষভাগে দেশে সাক্ষরতার হার দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের প্রতি চারজনের মধ্যে প্রায় একজন এখনো সাক্ষরতার মৌলিক দক্ষতার বাইরে রয়েছেন। গত কয়েক দশকে সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও শিক্ষার মান ও বাস্তব জীবনে মৌলিক দক্ষতা অর্জন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আজ ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এবারের দিবসকে সামনে রেখে সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক নিরক্ষরদের শিক্ষার আওতায় আনতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচিও।
তবে আগের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন না হওয়ার পর নতুন লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জন করা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
কয়েক দশকে বেড়েছে সাক্ষরতা
পরিসংখ্যান বলছে, স্বাধীনতার পরবর্তী কয়েক দশকে দেশে সাক্ষরতার হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী তখন দেশের সাক্ষরতার হার ছিল মাত্র ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ। এক দশক পর, ২০০১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ দশমিক ৫৫ শতাংশে।
২০১১ সালে সাক্ষরতার হার আরও বেড়ে হয় ৫১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
এর মধ্যে পুরুষের সাক্ষরতার হার ৭৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং নারীর ৭২ দশমিক ৮২ শতাংশ।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৫ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ১৯৯১ থেকে ২০২৫-২৬ সময়কালে সাক্ষরতার হার ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ চললেও শতভাগ সাক্ষরতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এক যুগ পরও অধরা সেই প্রতিশ্রুতি
২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে ২০১৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার রাজনৈতিক অঙ্গীকার করা হয়েছিল। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেছে প্রায় ১২ বছর আগে। কিন্তু এখনো দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ সাক্ষরতার বাইরে।
শুধু তাই নয়, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের লক্ষ্যও রয়েছে। ফলে পুরোনো প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার বাস্তবতার মধ্যেই নতুন লক্ষ্যমাত্রা সামনে এসেছে।
বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা ১৯ হাজার শিশুকে শিক্ষায় আনার উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, দেশের ৬৪ জেলার নির্বাচিত ৬৪ উপজেলায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোরকে শিক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব শিশু-কিশোরকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মৌলিক শিক্ষা দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক নিরক্ষরদের ব্যবহারিক সাক্ষরতা দিতে ‘প্রত্যেকে একজনকে শেখাবে’ মডেল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের নতুন লক্ষ্য এখন ২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা। তবে নতুন এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে শুধু সংখ্যাগতভাবে সাক্ষরতার হার বাড়ানো নয়, মানুষের পড়া, লেখা ও দৈনন্দিন জীবনে সেই জ্ঞান প্রয়োগের সক্ষমতা কতটা বাড়ছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।























