দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনে সরকারি সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের প্রস্তুতকারকদের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে যন্ত্র দুটি ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে এবং বাজারজাতের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
সভায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের কার্যকারিতা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় মান যাচাই, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
সভায় জানানো হয়, দুটি চিকিৎসা যন্ত্র আলাদা দুটি বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হলে এগুলো দেশের হাসপাতালগুলোতে ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় বিদেশি বিকল্পের তুলনায় কম খরচে এসব যন্ত্র বাজারজাত করা সম্ভব হবে, যা স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সাশ্রয়ী করতে ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, দেশেই এ ধরনের উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু হলে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের চিকিৎসা খাত আরও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভেন্টিলেটর একটি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম, যা গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তাই এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
অন্যদিকে, হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনটি তুলনামূলক সাধারণ শ্বাসতন্ত্রজনিত জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার উপযোগী। যন্ত্রটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি বিদ্যুৎ ছাড়াও পরিচালনা করা সম্ভব। ফলে দুর্গম এলাকা, বিদ্যুৎবিহীন পরিবেশ কিংবা রোগী পরিবহনের সময় অ্যাম্বুলেন্সেও এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রো-ভিসি ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ডা. মামুন শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
























