বিতর্কিত কমিটি নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা
ভলিবল ফেডারেশনের সভাপতি হলেন আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ!

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা এমএ লতিফ শাহরিয়ার জাহেদী প্রজ্জ্বল। তিনি ঝিনাইদহ পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য। আওয়ামী লীগ নেতাকে সভাপতি হওয়ায় বিতর্কিত কমিটি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলাজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করবে। পরে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে তারা। ততদিন পর্যন্ত প্রজ্জ্বলের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবে অ্যাডহক কমিটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রজ্জ্বলের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বড় ভাই নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। ’২৪-এর আমি-ডামি নির্বাচনে মহুল ঝিনাইদহ-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিজয়ী হন। প্রজ্জ্বলের আরেক ভাই কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল ঝিনাইদহ পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র। প্রজ্জ্বলের এই দুই ভাই সম্প্রতি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন বলে ঝিনাইদহে জোর গুঞ্জন রয়েছে। যদিও মহুল তা অস্বীকার করেছেন। তিনি জামায়াতে যোগ দিন আর না দিন, দলটির সঙ্গে মহুলের ঘনিষ্ঠতার কথা সবাই জানেন।
২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রচারণায় অংশ নিয়ে লতিফ শাহরিয়ার জাহেদী প্রজ্জ্বল সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা জানেন আমার বড় ভাই নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। সুতরাং, আমরা আওয়ামী লীগের বাইরের কেউ নই। আশা করছি মানুষ আমাদের ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করবে।
২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় মহুল তার বন্ধু তৎকালীন সিজিএস জেনারেল (অব) সিনহা ইবনে জামালীর বদৌলতে ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। সেই সময় তার হাতে প্রয়াত বিএনপি নেতা ঝিনাইদহের সাবেক এমপি মসিউর রহমানসহ বহু নেতা-কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলার বহু অভিযোগ রয়েছে মহুল ও তার ভাই হিজলের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের প্রভাব ও পেশীশক্তি খাটিয়ে মহুলের ছোট ভাই কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র পদ দখলে নেন। নির্বাচিত হওয়ার পর পৌরভবনে বসে মদপান করে আলোচনায় আসেন হিজল। পৌরসভার বেশির ভাগ ঠিকাদারি কাজ করাতেন নিজের বাড়ির কাজের লোকদের দিয়ে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পাগলাকানাই ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সদস্য লিটন মন্ডলকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করে দেয় মহুলের পালিত সন্ত্রাসীরা। এছাড়া একটি হাত ও পা কেটে ঝুলন্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায় তারা। পাগলাকানাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চিহ্নিত অস্ত্রধারী আবু সাইদ বিশ্বাস ও রাজন কসাইয়ের নেতৃত্বে যারা হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে তারা সবাই মহুলের অনুসারী।
গত বছরের ১৬ জুলাই ঝিনাইদহে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়। শহরের উজির আলী স্কুল এ্যান্ড কলেজ মাঠে এই হামলায় অনেকে আহত হন। তৎকালীন সংসদ সদস্য নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুলের নির্দেশে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজিব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান হামলায় নেতৃত্ব দেন।
ঝিনাইদহে কোটা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীরা জানান, স্বৈরাচার সরকারের একতরফা নির্বাচনের এমপি মহুল। তিনি ও তার ভাই হিজল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন বানচাল করার অর্থ জোগান ও মদদদাতা ছিলেন। আন্দোলন চলাকালে মহুল ও তার ভাই ছাত্রদের ওপর নির্যাতন চালানোর সবধরনের ব্যবস্থা করেন। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মহুল।

























