বিশ্বকাপ ২০২৬ সম্প্রচারে খরচ প্রায় শূন্য, আগেরবার লেনদেন ছিল ১৪০ কোটির : তথ্যমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব এবার সরাসরি ফিফার কাছ থেকে কিনে রাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তাঁর দাবি, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হলেও এবার স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে সেই ব্যয় প্রায় পুরোপুরি সমন্বয় করা সম্ভব হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহ আলম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় ফিফার কাছ থেকে ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারে মিডিয়া রাইটস কিনেছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। পরে বাংলাদেশে একটি মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিটিভির জন্য প্রায় ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রচার স্বত্ব নেওয়া হয়। একই প্রতিষ্ঠান থেকে দেশের অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশনও সাব-লাইসেন্স কিনেছিল। এর মধ্যে টি-স্পোর্টস প্রায় ২২ কোটি এবং ট্রফি ১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল—দেশের ফুটবলপ্রেমীরা যেন বিশ্বকাপ দেখতে পারেন, তবে জনগণের অর্থের অপচয় করা যাবে না। সেই নির্দেশনা অনুসারে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ফিফার সঙ্গে দর-কষাকষি করে বিটিভি ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৪৭ কোটি টাকা) সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছে।
তিনি জানান, পরে দেশের আরও চারটি গণমাধ্যমের কাছে সাব-লাইসেন্স বিক্রির মাধ্যমে প্রায় পুরো ব্যয় উঠে এসেছে। বর্তমানে মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে, যা বিজ্ঞাপন ও রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করে চূড়ান্তভাবে শূন্যে নামিয়ে আনার আশা করছে সরকার।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে সম্প্রচার স্বত্বে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে।
তিনি আরও জানান, বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলস পরিশ্রম করে বিশ্বকাপ সম্প্রচার সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি দর-কষাকষির পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য ক্রীড়া সাংবাদিক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারে শুধু শূন্য ঘাটতিই নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্যকর বাণিজ্যিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এ খাতকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করা হবে।




















