ভূ-রাজনীতি নয়, অর্থনীতিই বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি : তথ্যমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
ভূ-রাজনীতির চেয়ে অর্থনৈতিক স্বার্থকেই বাংলাদেশের বৈদেশিক ও কূটনৈতিক নীতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আমদানি-রপ্তানি, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং জনশক্তি রপ্তানিকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে পরিচালিত করছে। এ প্রেক্ষাপটে চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পারে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা অংশ নেন।
বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে রাজনৈতিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অর্থনীতি। বাংলাদেশের মোট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) মধ্যে চীনের অবস্থান দ্বিতীয়। দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও এর বেশির ভাগই আমদানিনির্ভর। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি এখনো ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকলেও এ খাতে সম্ভাবনা বাড়াতে চীন আগ্রহী বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন-ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে চীন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম পূর্বশর্ত উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উদ্যোগে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগে ভারতসহ এ অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশের অংশগ্রহণকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় মানবিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এ সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে কার্যকর সংলাপ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করে সরকার।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দর্শন ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বাস্তববাদী কূটনীতিতে বিশ্বাস করে। চীন ও ভারত থেকে আমদানি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে রপ্তানি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স—এই অর্থনৈতিক বাস্তবতাই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি নির্ধারণ করে। চীনও বাংলাদেশের এই অবস্থানকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ করতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।




















