এবার উত্তরাঞ্চলে নতুন শঙ্কা, সতর্কবার্তা ৭ জেলার জন্য

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং ভয়াবহ পাহাড়ধসের ক্ষত কাটতে না কাটতেই এবার উত্তরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে উত্তরাঞ্চলের অন্তত সাতটি জেলা বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অন্যদিকে, সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ১৯ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, আগামী কয়েক দিনে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানিও কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কিছু এলাকায় সতর্কসীমায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
অন্যদিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন এলাকার বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। পরবর্তী পাঁচ দিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ মানুষ। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৭টি উপজেলার ৩৬২টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌর এলাকা দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজার। সেখানে পাহাড়ধস ও ঢলে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ২৫ জন এবং একজন এখনো নিখোঁজ। চট্টগ্রামে পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন, আহত হয়েছেন ১২ জন। বান্দরবানে সাতজন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৮৪৯ জন। দুর্গত মানুষের জন্য চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্য বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য ৭৫ লাখ টাকা ও ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, কক্সবাজারের জন্য ৪০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল এবং রাঙামাটির জন্য ৩০ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের যেসব এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের সরকার এবং সবসময় জনগণের পাশে থাকবে। বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চকরিয়ার ছড়াকুল এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ, সড়ক ও বসতবাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেন।






















