আয় বাড়লেও লোকসান কমেনি, এক বছরে রেলের ঘাটতি ১,৮৯০ কোটি টাকা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এ সময়ে রেলওয়ের আয় বেড়ে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা হলেও পরিচালন ব্যয় পৌঁছেছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকায়।
রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমানের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের অর্থবছরের তুলনায় রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২১ কোটিরও বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী পরিবহন খাতে। এক বছরে এ খাতে অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে। তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন থেকে আয় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা কমেছে।
অন্যদিকে, ভূ-সম্পত্তি খাত থেকে ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ দিয়ে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা অতিরিক্ত আয় হয়েছে। তবে পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম, ভেন্ডিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন উৎস থেকে আয় প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা কমেছে।
রেলওয়ের পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব ব্যয় বিবেচনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়-ব্যয়ের অনুপাত (অপারেটিং রেশিও) দাঁড়িয়েছে ১.৯১, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২.০৯। অর্থাৎ আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান কিছুটা কমেছে।
তবে রেলওয়ের দাবি, প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন বাবদ ব্যয় পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এই ব্যয় বাদ দিলে অপারেটিং রেশিও দাঁড়ায় ১.৪৩ এবং তখনও আয়-ব্যয়ের ঘাটতি থাকে ৮৮৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় যাত্রীদের জন্য রেয়াতি ভাড়া বহাল রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে রেলভাড়া অপরিবর্তিত থাকলেও এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, আমদানিনির্ভর খরচ, ডলারের বিনিময় হার, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রেলওয়ের মতে, বর্তমান ভাড়া প্রায় এক দশক ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যান্য পরিবহন খাত ও বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেলভাড়া যৌক্তিকভাবে সমন্বয় করা হলে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমানো সম্ভব। তাই বাংলাদেশ রেলওয়েকে শুধুমাত্র লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।




















