যত ট্রলই হোক, সুশিক্ষা নিশ্চিতের পথ থেকে সরব না : শিক্ষামন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
ট্রল কিংবা অপপ্রচার সরকারের শিক্ষা সংস্কারের পথ রোধ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, সরকার জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব নিয়েই কাজ করছে এবং কোনো ধরনের সমালোচনা বা অপবাদে সেই দায়িত্ব থেকে সরে আসবে না।
শনিবার (১৮ জুলাই) নওগাঁ সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে শহরের বরুনকান্দি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল করেছেন, তাদের অধিকাংশই পরীক্ষার্থী ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, রাজধানীর সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ কিংবা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, “যে যত ট্রলই করুন, যে যত অপবাদই দিন না কেন, আমাদের দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করতে পারবেন না। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জাতিকে সুশিক্ষিত করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি।”
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
কুমিল্লায় জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা এক ঘণ্টা পেছানোর সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় মানবিক কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা রোধে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা ছাড়া শিক্ষার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ও সনদ প্রদান সম্ভব নয়। তাই শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
তিনি জানান, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে। শিক্ষা খাতে বাজেট ৮৭ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জাতীয় আয়ের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয় চাহিদার কথা বিবেচনায় আন্তর্জাতিক মানের ‘স্কুল অব এগ্রিকালচার’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া সেশনজট কমাতে ২০২৭ সাল থেকে জানুয়ারিতে এসএসসি এবং মার্চে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইউজিসির অনুমোদন পেয়ে আইন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পন্ন করেছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে এখন বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম শুরু হলো।




















