ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

জিয়া হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মোজাফফর গ্রেপ্তার, ৪৫ বছর পর সামনে পুরোনো প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৫ বছর পর ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তৎকালীন মেজর মোজাফফরের বর্তমান বয়স ৭৭ বছর।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১০টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে অবহিত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ডিএমপি জানিয়েছে, মোজাফফর হোসেন জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি বা সামরিক প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মোজাফফরের গ্রেপ্তারের পর আবারও আলোচনায় এসেছে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত সেই হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশিত বিভিন্ন বই, গবেষণা ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে, সেদিন সার্কিট হাউসে প্রবেশকারী সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মোজাফফরও ছিলেন।

এই গ্রেপ্তার নতুন করে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—সার্কিট হাউসে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, হত্যাকাণ্ডের সময় মোজাফফরের ভূমিকা কী ছিল এবং ঘটনার পর প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় তিনি কোথায় ও কীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তাঁর ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত Bangladesh: A Legacy of Blood গ্রন্থে ঘটনাটির একটি বর্ণনা দিয়েছেন। বইটির দাবি অনুযায়ী, গোলাগুলির শব্দ শুনে জিয়াউর রহমান কক্ষ থেকে বের হলে তাঁর কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন তৎকালীন মেজর মোজাফফর হোসেন এবং লেফটেন্যান্ট মোসলেহউদ্দিন।

বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মোজাফফর তখন দৃশ্যত বিচলিত ছিলেন এবং তাঁদের ধারণা ছিল, রাষ্ট্রপতিকে হত্যা নয়, সার্কিট হাউস থেকে সরিয়ে নেওয়াই অভিযানের উদ্দেশ্য। পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান গুলি চালান বলে বইটিতে দাবি করা হয়েছে।

গ্রন্থটিতে আরও বলা হয়েছে, সেনানিবাসে ফেরার পথে মোজাফফর নাকি মোসলেহউদ্দিনকে বলেছিলেন, তিনি জানতেন না যে রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হবে; তাঁর ধারণা ছিল, জিয়াউর রহমানকে কেবল সার্কিট হাউস থেকে নিয়ে যাওয়া হবে।

তবে এসব তথ্য অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বইয়ে বর্ণিত বিবরণের ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত। এগুলো আদালতে শপথের মাধ্যমে প্রদত্ত সাক্ষ্য বা বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জিয়া হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মোজাফফর গ্রেপ্তার, ৪৫ বছর পর সামনে পুরোনো প্রশ্ন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৫ বছর পর ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তৎকালীন মেজর মোজাফফরের বর্তমান বয়স ৭৭ বছর।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১০টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে অবহিত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ডিএমপি জানিয়েছে, মোজাফফর হোসেন জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি বা সামরিক প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মোজাফফরের গ্রেপ্তারের পর আবারও আলোচনায় এসেছে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত সেই হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশিত বিভিন্ন বই, গবেষণা ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে, সেদিন সার্কিট হাউসে প্রবেশকারী সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মোজাফফরও ছিলেন।

এই গ্রেপ্তার নতুন করে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—সার্কিট হাউসে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, হত্যাকাণ্ডের সময় মোজাফফরের ভূমিকা কী ছিল এবং ঘটনার পর প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় তিনি কোথায় ও কীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তাঁর ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত Bangladesh: A Legacy of Blood গ্রন্থে ঘটনাটির একটি বর্ণনা দিয়েছেন। বইটির দাবি অনুযায়ী, গোলাগুলির শব্দ শুনে জিয়াউর রহমান কক্ষ থেকে বের হলে তাঁর কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন তৎকালীন মেজর মোজাফফর হোসেন এবং লেফটেন্যান্ট মোসলেহউদ্দিন।

বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মোজাফফর তখন দৃশ্যত বিচলিত ছিলেন এবং তাঁদের ধারণা ছিল, রাষ্ট্রপতিকে হত্যা নয়, সার্কিট হাউস থেকে সরিয়ে নেওয়াই অভিযানের উদ্দেশ্য। পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান গুলি চালান বলে বইটিতে দাবি করা হয়েছে।

গ্রন্থটিতে আরও বলা হয়েছে, সেনানিবাসে ফেরার পথে মোজাফফর নাকি মোসলেহউদ্দিনকে বলেছিলেন, তিনি জানতেন না যে রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হবে; তাঁর ধারণা ছিল, জিয়াউর রহমানকে কেবল সার্কিট হাউস থেকে নিয়ে যাওয়া হবে।

তবে এসব তথ্য অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বইয়ে বর্ণিত বিবরণের ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত। এগুলো আদালতে শপথের মাধ্যমে প্রদত্ত সাক্ষ্য বা বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।