জমির রেকর্ড না বদলানোয় উন্নয়ন প্রকল্পে আইনি জটিলতার আশঙ্কা
সরকারি মালিকানা ছাড়াই চলছে ৩৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
সরকারি ভবন আছে, সরকারি শিক্ষক আছেন, নিয়মিত চলছে পাঠদান। কিন্তু যে জমির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে বিদ্যালয়গুলো, সেই জমির মালিকানা এখনো সরকারের নামে নয়। কোথাও জমির রেকর্ড রয়েছে দাতার নামে, কোথাও উত্তরাধিকারীদের নামে, আবার কোথাও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নামে। এমন পরিস্থিতিতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমির মালিকানা নিয়ে তৈরি হয়েছে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় মোট ১৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮টির জমির রেকর্ড ও নামজারি এখনো সরকারের নামে সম্পন্ন হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, সীমানাপ্রাচীর, অবকাঠামো সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাণীশংকৈল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০৫ শতক জমি এখনো বি.আর.এস. রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পাটশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০০ শতক জমির রেকর্ড এখনো ‘প‚র্ব পাকিস্তান সরকার’-এর নামে রয়েছে। ভেলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ শতক জমির রেকর্ড রয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নামে। এভাবে উপজেলার ৩৮টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ বিঘা জমির রেকর্ড এখনো সরকারের নামে হালনাগাদ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কয়েক দশক আগে স্থানীয় ব্যক্তি বা পরিবারের দান করা জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ হলেও অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের নামে হস্তান্তর করা হয়নি। কোথাও দাতার মৃত্যুর পর জমি উত্তরাধিকারীদের নামে নামজারি হয়েছে, কিন্তু সরকারি মালিকানায় নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
এ ছাড়া কয়েকটি বিদ্যালয় এস.এ. জরিপের পর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তখন জমির রেকর্ড তৈরি হয়নি। পরে বি.আর.এস. জরিপের সময় প্রয়োজনীয় আবেদন ও দলিলপত্র যথাসময়ে জমা না দেওয়ায় সমস্যাটি এখনো বহাল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত না থাকলে ভবিষ্যতে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামো স¤প্রসারণ কিংবা জমি দখলসংক্রান্ত বিরোধ দেখা দিলে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
চোপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কুলসুমা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের জমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছি।
বনগাঁও শিয়ালডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরন নবী বলেন, বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব জমিতে পরিচালিত হলেও এখনো সরকারের নামে রেকর্ড হয়নি। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র শিক্ষা অফিসে দেওয়া হয়েছে।
ভেলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সইদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের জমির রেকর্ড বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নামে রয়েছে। এটি সরকারের নামে হালনাগাদের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দ্রæত সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত করা জরুরি। এতে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকবে, দখল বা মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধের আশঙ্কা কমবে এবং ভবিষ্যতের উন্নয়ন কার্যক্রমও নির্বিঘ্নে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বাংলা টাইমসকে বলেন, যেসব বিদ্যালয়ের জমি এখনো সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়নি, সেগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দ্রæত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বাংলা টাইমসকে বলেন, সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত না হওয়া বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও ভ‚মি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমির মালিকানা সরকারের নামে হালনাগাদ করা গেলে ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জমি-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা অনেকটাই দ‚র হবে।




















