ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনার ৭ মিনিটের ঝড় সামলাতে পারল না ইংল্যান্ড ব‍্যর্থ ইংল্যান্ড, ফের শেষ বেলায় বাজিমাত আর্জেন্টিনার মাসে তিনবারের বেশি টাকা তুললে দিতে হবে অতিরিক্ত ফি শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ, জানালেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে কেন বাড়ছে পাহাড় ধস? গবেষণায় উঠে এলো ভয়াবহ চিত্র হত্যার পর ড্রেনে স্কুলছাত্রীর লাশ, যুবককে ফাঁসির দণ্ড আইসিসির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগস কমিটির চেয়ারম্যান হলেন তামিম ইকবাল বিশ্বকাপ ফাইনালে হাফটাইম শো, দীর্ঘ বিরতিতে প্রশ্ন ফুটবলারদের প্রস্তুতি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রেও আকাশছোঁয়া আয়, ফিফা সভাপতির বেতন কত? শাহবাগের অবরোধ প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম

আর্জেন্টিনার ৭ মিনিটের ঝড় সামলাতে পারল না ইংল্যান্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এই ম্যাচ শুধু ফুটবলের লড়াই ছিল না। এই ম্যাচ ছিল একে অপরকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার লড়াই। ৬০ বছর আগে যা শুরু হয়েছিল, সেই লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে বাজিমাত করল আর্জেন্টিনা। দিয়েগো মারাদোনা যা করেছিলেন তা-ই করলেন লিয়োনেল মেসি। খানিকটা অন্যভাবে। মারাদোনা জোড়া গোল করেছিলেন। মেসি জোড়া অ্যাসিস্ট করলেন। আর তাতেই পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। সেখানে তাদের সামনে স্পেন।

বারবার হাজারবার সেটা চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ দিল আর্জেন্টিনা। হারের আগে হারব না। চল, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। সঙ্গে লিওনেল মেসি আছে। মাথার উপর দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা আছেন। আমরা বিশ্বসেরা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য কামব্যাকে ফের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা। ২-১ গোলে ম্যাচ জিতলেন লিওনেল মেসিরা। না, এই ম্যাচে কোনও রেফারিং বিতর্ক ছিল। ছিল রক্ত-ঘাম এক করে দিয়ে লড়াই। ইংল্যান্ড ঠিক এই খিদেটার কাছে হেরে গেল।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে শুরুতে শুধুই মারামারি। এ কী চলছে? একে কি ফুটবল বলে? কিন্তু আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি নিজের সীমাবদ্ধতা জানেন। একটা পরিসংখ্যান দেওয়া যাক- ৭-১২। প্রথমার্ধ শেষে এটা ছিল পরিসংখ্যান। না, গোল লক্ষ্য করে শট নয়। এটা হল ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচে প্রথমার্ধে ফাউলের পরিসংখ্যান। ব্যাটল অফ আটলান্টা নয়, একে নয়া ফকল্যান্ড যুদ্ধ বললেও ভুল বলা হয় না। দু’টো দল নেমেছিল রণং দেহি মেজাজে।

লিওনেল মেসি নামক এক ম্যাজিশিয়ান মাঠে থাকা সত্বেও প্রথমার্ধ জুড়ে শুধু কুস্তি চলল। গোল লক্ষ্য করে শট ইংল্যান্ডের মাত্র একটি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা মূলত একটা ট্যাকটিক্স নিয়েই নেমেছে। মেসি যা করবেন। এদিন আরেকটা ট্যাকটিক্সও ছিল, ইংল্যান্ডকে খেলতে দিও না। যে কারণে রড্রিগো ডি’পলের জায়গায় কোচ লিওনেল স্কালোনি ডানদিকে নামালেন গিউলিয়ানো সিমিওনেকে।

বাবা দিয়েগো সিমিওনের মতোই লড়াকু। বাকি কাজটা করলেন ডি’পলের মতোই- ধস্তাধস্তি। শুধু একটু দ্রুত গতিতে। তবে অন্য ম্যাচের তুলনায় আর্জেন্টিনা ডিফেন্সকে প্রথমার্ধে অনেক সংঘবদ্ধ দেখিয়েছে। মারামারি করেই হোক, বা যেভাবে জুড বেলিংহ্যামরা জায়গা পাননি। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল কেন সাকা বা মাদুয়েকে থাকতে কেন তিনি মর্গান রজার্সকে প্রথম একাদশে রাখলেন, তা একটা প্রশ্ন। তবে একটা কাজ টুখেল বেশ যত্ন নিয়েই করেছেন।

ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে একজন তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, লিওনেল মেসিকে আটকাতে জোনাল মার্কিং করবেন কি না। টুখেল একেবারে পুলিশম্যান মার্কিংয়ে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে মেসির পিছনে জুড়ে দিলেন। কমবয়সে এরকম চার-পাঁচটা এলিয়টকে মেসি জলপান করে নিতেন। এখন বয়স হয়েছে, মাঝেমধ্যে দাঁতে বিঁধে যায়। তাতেও দুয়েকবার অবিশ্বাস্যভাবে ছিটকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। বাকিটা সেভাবে আরও জায়গা পাননি। দু’দলের বলই মাঝমাঠের এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াল। বিস্তর ফাউল ও দু’টো হলুদ কার্ড। গোলের আশেপাশেও কেউ পৌঁছতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই স্বমহিমায় ফিরল আর্জেন্টিনার রক্ষণ। এরকম হাইভোল্টেজ ম্যাচে একটাও ভুল করতে নেই। সেটা বোধহয় ভুলে গিয়েছিলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। বাজে ক্লিয়ারেন্স, অফসাইড তৈরি করতে ভুল। মুহূর্তের মধ্যে বক্সে ক্রস তুলে দিলেন। ইংরেজ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন জালে বল জড়িয়ে দিলেন। নাহুয়েল মোলিনা কভার পর্যন্ত করলেন না।

ম্যাচের বয়স তখন ৫৫ মিনিট। টুখেল পুরো ডিফেন্সে তালা লাগিয়ে দিলেন। বক্সের সামনে পায়ের জঙ্গল। কিন্তু সেটাকে ছিঁড়ে বেরনোর মতো স্কিলফুল কেউ নেই আর্জেন্টিনা দলে। নীল-সাদা ভক্তরা ‘ঈশ্বর’ আরাধনার মধ্যে এক ‘অ্যাঞ্জেল’-এর জন্য হাহুতাশ করছেন হয়তো। কিন্তু না, এই দলটা শুধু মেসির নামে নয়। গোটা আর্জেন্টিনার। তবে ৬৮ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের হেড ঝাঁপিয়ে পড়ে সেভ করেন ইংরেজ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।

৭৫ মিনিটে ফেরাল বার। ৮৪ মিনিটে এনজোর দূরপাল্লার শট। গোলের খুব কাছে, তবু দূরে। আর কতক্ষণ চাপ সামলাবে ইংল্যান্ড? আদৌ পারবে তো? ভাবার আগেই ধেয়ে এল এক বুলেট। বেরোল সেই এনজোর পা থেকে। গোটা আটলান্টা স্টেডিয়াম কেঁপে উঠল। কেঁপে উঠল গোটা দুনিয়া। আর্জেন্টিনা সমতা ফিরিয়েছে। খেলা এখনও বাকি! শেষে লাউতারো মারটিনেজের হেডে জিতল আর্জেন্টিনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আর্জেন্টিনার ৭ মিনিটের ঝড় সামলাতে পারল না ইংল্যান্ড

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

এই ম্যাচ শুধু ফুটবলের লড়াই ছিল না। এই ম্যাচ ছিল একে অপরকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার লড়াই। ৬০ বছর আগে যা শুরু হয়েছিল, সেই লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে বাজিমাত করল আর্জেন্টিনা। দিয়েগো মারাদোনা যা করেছিলেন তা-ই করলেন লিয়োনেল মেসি। খানিকটা অন্যভাবে। মারাদোনা জোড়া গোল করেছিলেন। মেসি জোড়া অ্যাসিস্ট করলেন। আর তাতেই পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। সেখানে তাদের সামনে স্পেন।

বারবার হাজারবার সেটা চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ দিল আর্জেন্টিনা। হারের আগে হারব না। চল, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। সঙ্গে লিওনেল মেসি আছে। মাথার উপর দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা আছেন। আমরা বিশ্বসেরা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য কামব্যাকে ফের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা। ২-১ গোলে ম্যাচ জিতলেন লিওনেল মেসিরা। না, এই ম্যাচে কোনও রেফারিং বিতর্ক ছিল। ছিল রক্ত-ঘাম এক করে দিয়ে লড়াই। ইংল্যান্ড ঠিক এই খিদেটার কাছে হেরে গেল।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে শুরুতে শুধুই মারামারি। এ কী চলছে? একে কি ফুটবল বলে? কিন্তু আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি নিজের সীমাবদ্ধতা জানেন। একটা পরিসংখ্যান দেওয়া যাক- ৭-১২। প্রথমার্ধ শেষে এটা ছিল পরিসংখ্যান। না, গোল লক্ষ্য করে শট নয়। এটা হল ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচে প্রথমার্ধে ফাউলের পরিসংখ্যান। ব্যাটল অফ আটলান্টা নয়, একে নয়া ফকল্যান্ড যুদ্ধ বললেও ভুল বলা হয় না। দু’টো দল নেমেছিল রণং দেহি মেজাজে।

লিওনেল মেসি নামক এক ম্যাজিশিয়ান মাঠে থাকা সত্বেও প্রথমার্ধ জুড়ে শুধু কুস্তি চলল। গোল লক্ষ্য করে শট ইংল্যান্ডের মাত্র একটি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা মূলত একটা ট্যাকটিক্স নিয়েই নেমেছে। মেসি যা করবেন। এদিন আরেকটা ট্যাকটিক্সও ছিল, ইংল্যান্ডকে খেলতে দিও না। যে কারণে রড্রিগো ডি’পলের জায়গায় কোচ লিওনেল স্কালোনি ডানদিকে নামালেন গিউলিয়ানো সিমিওনেকে।

বাবা দিয়েগো সিমিওনের মতোই লড়াকু। বাকি কাজটা করলেন ডি’পলের মতোই- ধস্তাধস্তি। শুধু একটু দ্রুত গতিতে। তবে অন্য ম্যাচের তুলনায় আর্জেন্টিনা ডিফেন্সকে প্রথমার্ধে অনেক সংঘবদ্ধ দেখিয়েছে। মারামারি করেই হোক, বা যেভাবে জুড বেলিংহ্যামরা জায়গা পাননি। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল কেন সাকা বা মাদুয়েকে থাকতে কেন তিনি মর্গান রজার্সকে প্রথম একাদশে রাখলেন, তা একটা প্রশ্ন। তবে একটা কাজ টুখেল বেশ যত্ন নিয়েই করেছেন।

ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে একজন তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, লিওনেল মেসিকে আটকাতে জোনাল মার্কিং করবেন কি না। টুখেল একেবারে পুলিশম্যান মার্কিংয়ে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে মেসির পিছনে জুড়ে দিলেন। কমবয়সে এরকম চার-পাঁচটা এলিয়টকে মেসি জলপান করে নিতেন। এখন বয়স হয়েছে, মাঝেমধ্যে দাঁতে বিঁধে যায়। তাতেও দুয়েকবার অবিশ্বাস্যভাবে ছিটকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। বাকিটা সেভাবে আরও জায়গা পাননি। দু’দলের বলই মাঝমাঠের এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াল। বিস্তর ফাউল ও দু’টো হলুদ কার্ড। গোলের আশেপাশেও কেউ পৌঁছতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই স্বমহিমায় ফিরল আর্জেন্টিনার রক্ষণ। এরকম হাইভোল্টেজ ম্যাচে একটাও ভুল করতে নেই। সেটা বোধহয় ভুলে গিয়েছিলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। বাজে ক্লিয়ারেন্স, অফসাইড তৈরি করতে ভুল। মুহূর্তের মধ্যে বক্সে ক্রস তুলে দিলেন। ইংরেজ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন জালে বল জড়িয়ে দিলেন। নাহুয়েল মোলিনা কভার পর্যন্ত করলেন না।

ম্যাচের বয়স তখন ৫৫ মিনিট। টুখেল পুরো ডিফেন্সে তালা লাগিয়ে দিলেন। বক্সের সামনে পায়ের জঙ্গল। কিন্তু সেটাকে ছিঁড়ে বেরনোর মতো স্কিলফুল কেউ নেই আর্জেন্টিনা দলে। নীল-সাদা ভক্তরা ‘ঈশ্বর’ আরাধনার মধ্যে এক ‘অ্যাঞ্জেল’-এর জন্য হাহুতাশ করছেন হয়তো। কিন্তু না, এই দলটা শুধু মেসির নামে নয়। গোটা আর্জেন্টিনার। তবে ৬৮ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের হেড ঝাঁপিয়ে পড়ে সেভ করেন ইংরেজ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড।

৭৫ মিনিটে ফেরাল বার। ৮৪ মিনিটে এনজোর দূরপাল্লার শট। গোলের খুব কাছে, তবু দূরে। আর কতক্ষণ চাপ সামলাবে ইংল্যান্ড? আদৌ পারবে তো? ভাবার আগেই ধেয়ে এল এক বুলেট। বেরোল সেই এনজোর পা থেকে। গোটা আটলান্টা স্টেডিয়াম কেঁপে উঠল। কেঁপে উঠল গোটা দুনিয়া। আর্জেন্টিনা সমতা ফিরিয়েছে। খেলা এখনও বাকি! শেষে লাউতারো মারটিনেজের হেডে জিতল আর্জেন্টিনা।