জ্বালানি তেলের মজুত ৯০ দিনে নিতে সরকারের পরিকল্পনা, নির্মাণ হবে নতুন ডিপো

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৩৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে কৌশলগত জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন ডিপো ও সংরক্ষণ ট্যাংক নির্মাণের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ট্যাংক ভাড়ায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের জ্বালানি তেল মজুত সক্ষমতা বর্তমান ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৭১ দিনে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনে উন্নীত করা হবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যৌথভাবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে ৬০ দিনের বেশি জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও বিদ্যমান সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনের কৌশলগত মজুত অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জাতীয় জ্বালানি নীতিতে ৬০ দিনের কৌশলগত মজুতের কথা থাকলেও বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সরকার তা ৯০ দিনে উন্নীত করতে চায়। তবে বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বছরে চাহিদা ৮৪ লাখ টনের বেশি
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮৪ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি, ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার টন।
বর্তমানে বিপিসির আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মোট জ্বালানি তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ ৪৪ হাজার টন। বর্তমানে ডিজেলের ৫৭ দিন, অকটেনের ৪৬ দিন, পেট্রোলের ২৯ দিন এবং ফার্নেস অয়েলের ৭৮ দিনের মজুত সক্ষমতা রয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের ট্যাংকও ব্যবহার করা হবে
সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিআরটিসিসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংরক্ষণ ট্যাংক ভাড়ায় ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রায় ৮২ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার ট্যাংক সংস্কার করে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ট্যাংক ব্যবহার করা গেলে নতুন প্রকল্প ছাড়াই দেশের সামগ্রিক জ্বালানি মজুত সক্ষমতা আরও ১২ থেকে ১৩ দিন পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে।
নির্মাণ হচ্ছে নতুন ডিপো ও ট্যাংক
মজুত সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিপিসি।
সম্প্রতি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের আওতায় নতুন ডিপোর কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। এতে উত্তরাঞ্চলে প্রায় ২৮ হাজার ৪৩৭ টন অতিরিক্ত জ্বালানি সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সেখানে আরও চারটি নতুন ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া কুমিল্লায় আরও ছয়টি নতুন ডিপো নির্মাণ, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও আলীগঞ্জ ডিপোতে নতুন ট্যাংক স্থাপন, ভৈরব বাজারে নতুন সংরক্ষণ ট্যাংক নির্মাণ এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।
কেরোসিন ও জেট ফুয়েলের চাহিদা কমে যাওয়ায় এসব সংরক্ষণ ট্যাংক ডিজেল রাখার উপযোগী করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বৃত্ত ট্যাংক ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মত
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন জমি অধিগ্রহণ করে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, অচল ট্যাংক সচল করা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত সংরক্ষণ সুবিধা কাজে লাগানো হলে কম সময় ও কম ব্যয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে।






















