ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংককে ৪ দিনে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তারল্য সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (১৭ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন করে এ অর্থ ছাড় করে। এর ফলে গত চার দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাংকটি মোট প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা পেল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রাহকদের স্বাভাবিক লেনদেন অব্যাহত রাখা এবং ব্যাংকটির ওপর চলমান তারল্য চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে নিয়োগ ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং গ্রাহকদের আস্থাহীনতার কারণে ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত উত্তোলনের চাপ বেড়েছে। এর ফলে ব্যাংকটির তারল্য সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছরে ঋণ অনিয়ম, খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং আমানতকারীদের আস্থা সংকটের কারণে ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন ও অন্যান্য ব্যাংকিং সেবাতেও পড়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বৈঠক শেষে সংগঠনটি সাত দফা দাবি উত্থাপন করে।

ফোরামের অন্যতম দাবি হলো, অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে অধিগ্রহণের অভিযোগ থাকা গোষ্ঠীর হাতে থাকা ব্যাংকের শেয়ার হয় আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, নয়তো প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিক্রি করা। তাদের মতে, এতে মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

এ ছাড়া ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের বিষয়টি নতুন পরিচালনা পর্ষদের বিবেচনায় রয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে। এ বিষয়ে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গ্রাহক ফোরাম আরও দাবি করেছে, ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মালিকানা ও পরিচালনায় বড় পরিবর্তনের পর থেকেই ইসলামী ব্যাংক নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ঋণ বিতরণে অনিয়ম, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনসহ আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও দীর্ঘদিনের অনিয়মের প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্যাংকটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইসলামী ব্যাংককে ৪ দিনে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার সহায়তা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

তারল্য সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (১৭ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন করে এ অর্থ ছাড় করে। এর ফলে গত চার দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাংকটি মোট প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা পেল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রাহকদের স্বাভাবিক লেনদেন অব্যাহত রাখা এবং ব্যাংকটির ওপর চলমান তারল্য চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে নিয়োগ ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং গ্রাহকদের আস্থাহীনতার কারণে ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত উত্তোলনের চাপ বেড়েছে। এর ফলে ব্যাংকটির তারল্য সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছরে ঋণ অনিয়ম, খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং আমানতকারীদের আস্থা সংকটের কারণে ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন ও অন্যান্য ব্যাংকিং সেবাতেও পড়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। বৈঠক শেষে সংগঠনটি সাত দফা দাবি উত্থাপন করে।

ফোরামের অন্যতম দাবি হলো, অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে অধিগ্রহণের অভিযোগ থাকা গোষ্ঠীর হাতে থাকা ব্যাংকের শেয়ার হয় আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, নয়তো প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিক্রি করা। তাদের মতে, এতে মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

এ ছাড়া ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের বিষয়টি নতুন পরিচালনা পর্ষদের বিবেচনায় রয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে। এ বিষয়ে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গ্রাহক ফোরাম আরও দাবি করেছে, ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মালিকানা ও পরিচালনায় বড় পরিবর্তনের পর থেকেই ইসলামী ব্যাংক নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ঋণ বিতরণে অনিয়ম, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনসহ আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও দীর্ঘদিনের অনিয়মের প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্যাংকটি।