ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেটে স্বস্তির ইঙ্গিত: নিত্যপণ্য, ওষুধ ও প্রযুক্তিপণ্যে কমবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রযুক্তিপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে কর ও শুল্ক কমানোর প্রস্তাব এসেছে। এতে বাজারে এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করা হয়। এটি দেশের ৫৫তম এবং বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বাজেট উপস্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করে উৎপাদন খরচ ও আমদানি ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, চিকিৎসা সামগ্রী, প্রযুক্তিপণ্য ও পরিবেশবান্ধব খাতে কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার, গিজারসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি ও ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম কমতে পারে।

কম্পিউটার, প্রিন্টার, মনিটরসহ প্রযুক্তিপণ্যেও করছাড়ের প্রস্তাব থাকায় এই খাতেও স্বস্তির আশা করা হচ্ছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহৃত ১৫টি পণ্যের ওপর কর হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা খাতে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর কর প্রত্যাহার বা হ্রাসের প্রস্তাব রয়েছে। এতে চিকিৎসা ব্যয় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামাল, হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ওপর ভ্যাট কমানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে সবচেয়ে বড় স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, ডিমসহ প্রায় ৬০টি কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

শিশুখাদ্য, মসলা ও খেজুর আমদানিতেও শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব থাকায় এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।

শিল্প খাতে অগ্রিম কর কমানো এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোজ্যতেল খাতে দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে দীর্ঘমেয়াদি করছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে। এতে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতেও একাধিক কর সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। মোবাইল ফোন উৎপাদনের কাঁচামালে কর কমানো, সিমকার্ডে ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তন এবং টেলিকম সেবায় উৎসে কর হ্রাসের ফলে এ খাতেও খরচ কমতে পারে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিদ্যুৎ কেনা ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি কর ছাড় ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

সোনার বাজারেও উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা স্বর্ণ ব্যবসাকে আরও আনুষ্ঠানিক খাতে আনতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়িত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে প্রযুক্তি ও চিকিৎসা খাতে খরচ কিছুটা কমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাজেটে স্বস্তির ইঙ্গিত: নিত্যপণ্য, ওষুধ ও প্রযুক্তিপণ্যে কমবে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রযুক্তিপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে কর ও শুল্ক কমানোর প্রস্তাব এসেছে। এতে বাজারে এসব পণ্যের দাম কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করা হয়। এটি দেশের ৫৫তম এবং বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বাজেট উপস্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করে উৎপাদন খরচ ও আমদানি ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, চিকিৎসা সামগ্রী, প্রযুক্তিপণ্য ও পরিবেশবান্ধব খাতে কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার, গিজারসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি ও ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম কমতে পারে।

কম্পিউটার, প্রিন্টার, মনিটরসহ প্রযুক্তিপণ্যেও করছাড়ের প্রস্তাব থাকায় এই খাতেও স্বস্তির আশা করা হচ্ছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহৃত ১৫টি পণ্যের ওপর কর হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা খাতে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর কর প্রত্যাহার বা হ্রাসের প্রস্তাব রয়েছে। এতে চিকিৎসা ব্যয় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামাল, হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ওপর ভ্যাট কমানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে সবচেয়ে বড় স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, ডিমসহ প্রায় ৬০টি কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

শিশুখাদ্য, মসলা ও খেজুর আমদানিতেও শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব থাকায় এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।

শিল্প খাতে অগ্রিম কর কমানো এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোজ্যতেল খাতে দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে দীর্ঘমেয়াদি করছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে। এতে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতেও একাধিক কর সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। মোবাইল ফোন উৎপাদনের কাঁচামালে কর কমানো, সিমকার্ডে ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তন এবং টেলিকম সেবায় উৎসে কর হ্রাসের ফলে এ খাতেও খরচ কমতে পারে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিদ্যুৎ কেনা ও জ্বালানি সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি কর ছাড় ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

সোনার বাজারেও উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা স্বর্ণ ব্যবসাকে আরও আনুষ্ঠানিক খাতে আনতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়িত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে প্রযুক্তি ও চিকিৎসা খাতে খরচ কিছুটা কমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।