ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২

মো. সোহরাব হোসনে সৌরভ, রাজশাহী
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু, ছিনতাইকৃত নগদ ৩৩ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নগরীর বোয়ালিয়া থানার সপুরা এলাকার মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুর রহমান ডাবলু (৩৬) এবং মতিহার থানার মির্জাপুর গ্রামের মৃত হাসানের ছেলে আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলন (৪৮)। ডাবলুকে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এবং মিলনকে সরাসরি অংশগ্রহণকারী হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল পাবনা ডেইরি ফার্মের কর্মচারী মো. মাসুদ রানা ২ হাজার লিটার তরল দুধ নিয়ে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন। দুধ সরবরাহ শেষে তাকে প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা দেওয়া হয়। তিনি ওই টাকা লরির চালকের আসনের পেছনে রেখে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে লরিটি বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের একটি মোটরসাইকেলে আসা দুষ্কৃতিকারীরা লরির গতিরোধ করে। তারা জানালার কাঁচ ভেঙে চালকের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে এবং ভেতরে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর বেলপুকুর থানায় মামলা দায়ের হলে আরএমপি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় ডিবির একটি বিশেষ টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং ধারাবাহিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে তদন্তকারীরা ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহমান ডাবলু ও সায়েম ওরফে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডাবলুর কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা এবং মিলনের কাছ থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত পিস্তলসদৃশ বস্তুসহ ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে এবং ছিনতাই হওয়া অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু, ছিনতাইকৃত নগদ ৩৩ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নগরীর বোয়ালিয়া থানার সপুরা এলাকার মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুর রহমান ডাবলু (৩৬) এবং মতিহার থানার মির্জাপুর গ্রামের মৃত হাসানের ছেলে আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলন (৪৮)। ডাবলুকে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এবং মিলনকে সরাসরি অংশগ্রহণকারী হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল পাবনা ডেইরি ফার্মের কর্মচারী মো. মাসুদ রানা ২ হাজার লিটার তরল দুধ নিয়ে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন। দুধ সরবরাহ শেষে তাকে প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা দেওয়া হয়। তিনি ওই টাকা লরির চালকের আসনের পেছনে রেখে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে লরিটি বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের একটি মোটরসাইকেলে আসা দুষ্কৃতিকারীরা লরির গতিরোধ করে। তারা জানালার কাঁচ ভেঙে চালকের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে এবং ভেতরে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর বেলপুকুর থানায় মামলা দায়ের হলে আরএমপি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় ডিবির একটি বিশেষ টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং ধারাবাহিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে তদন্তকারীরা ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহমান ডাবলু ও সায়েম ওরফে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডাবলুর কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা এবং মিলনের কাছ থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত পিস্তলসদৃশ বস্তুসহ ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে এবং ছিনতাই হওয়া অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।