ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আ’ লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নোয়াখালী প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তৃতীয় দফায় আরও ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় এনিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৬৫জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে।    

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশওি স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রলীগের হাজার খানেক নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার সূত্র ধরে পরের দিন শনিবার বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই দিন রাত ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে পাল্টা কালাদরাপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে হামলা ভাংচুর করে এবং তার একটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসব ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে বাঁধেরহাটের ঘটনায় সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, ঘটনার পরপরই সদর উপজেলার নোয়ান্নই ও কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ।

ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম আরও জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আ’ লীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ১৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬



নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তৃতীয় দফায় আরও ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় এনিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৬৫জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে।    

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশওি স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রলীগের হাজার খানেক নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার সূত্র ধরে পরের দিন শনিবার বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই দিন রাত ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে পাল্টা কালাদরাপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে হামলা ভাংচুর করে এবং তার একটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসব ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে বাঁধেরহাটের ঘটনায় সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, ঘটনার পরপরই সদর উপজেলার নোয়ান্নই ও কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ।

ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম আরও জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।