ঢাকা ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করেই নতুন বাজেট: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীতে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বাজেট প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত হয়েছে। তাই নতুন বাজেটে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং গৃহিণীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাব বা নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে। এতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না।

কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা হবে।

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষকে চিকিৎসার জন্য এখনো নিজের পকেট থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। এ বাস্তবতায় সরকার প্রাথমিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও এনজিওগুলোকেও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কামার, কুমার, তাঁতি, কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সুবিধা, ডিজাইন সহায়তা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি শুধু শিল্প-কারখানার ওপর নির্ভরশীল নয়; সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সৃজনশীল খাতও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিভিন্ন অনুমোদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

বাজেট বাস্তবায়ন তদারকির জন্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পর্যবেক্ষণে ড্যাশবোর্ডভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয়গুলো দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিশন গঠন করা হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং পুঁজিবাজারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর তহবিল সংগ্রহ সহজ হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করেই নতুন বাজেট: অর্থমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীতে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বাজেট প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত হয়েছে। তাই নতুন বাজেটে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং গৃহিণীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাব বা নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে। এতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না।

কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা হবে।

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষকে চিকিৎসার জন্য এখনো নিজের পকেট থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। এ বাস্তবতায় সরকার প্রাথমিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও এনজিওগুলোকেও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কামার, কুমার, তাঁতি, কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সুবিধা, ডিজাইন সহায়তা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি শুধু শিল্প-কারখানার ওপর নির্ভরশীল নয়; সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সৃজনশীল খাতও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিভিন্ন অনুমোদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

বাজেট বাস্তবায়ন তদারকির জন্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পর্যবেক্ষণে ড্যাশবোর্ডভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয়গুলো দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিশন গঠন করা হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং পুঁজিবাজারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর তহবিল সংগ্রহ সহজ হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।