ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আটঘরিয়ার সড়কে দুর্ভোগ চরমে, বর্ষার আগে দ্রুত সংস্কারের দাবি

মাসুদ রানা, পাবনা
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: null; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (0.54583335, 0.6375);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: auto;albedo: ;confidence: ;motionLevel: 0;weatherinfo: null;temperature: 38;

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

উন্নয়নের নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও উপজেলার একাধিক সড়কের ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে এসব সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবোত্তর থেকে কয়ড়াবাড়ি অভিমুখে সূতার ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে সড়ক ভেঙে রাস্তার মূল অংশের সঙ্গে মিশে গেছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের পূর্ব পাশে নতুন ঢালাই রাস্তা এবং পশ্চিম পাশে নতুন করে পিচঢালাই করা হলেও মাঝখানের প্রায় ৫০ গজ সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে আছে। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—কেন এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটির কাজ এখনো শেষ করা হয়নি?

এদিকে উপজেলার আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। জালালের ঢাল থেকে বিদ্যুৎ স্টেশন পর্যন্ত সড়কে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত, যা যান চলাচলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কে ল্যাবরেটরি কোম্পানির পাশের সড়কেও ব্যাপক ভাঙনের চিত্র দেখা গেছে।

একইভাবে আব্দুস সোবহান মোল্লার রাইস মিল সংলগ্ন সড়কের একাংশ ভেঙে পাশের পুকুরের দিকে ধসে পড়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এছাড়াও মতিঝিল ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ব্রিজের পাশের রাস্তা, চাঁদপুর কবরস্থানের প্রাচীর ঘেঁষা সড়ক, মেঘার ঢাল থেকে ময়েন আমিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা এবং জুমাইখিড়ি সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এসব সড়ক এখন জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করে সূতার ব্রিজের দুই পাশের ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচল করতে গেলে সবসময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করি। রাস্তার বড় বড় গর্তের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বর্ষা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “উন্নয়নের নামে অনেক জায়গায় কাজ হচ্ছে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু রাস্তার ভাঙা অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমে।”

এ বিষয়ে দেবোত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব রতন মোল্লা বলেন, “দেবোত্তর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে।”স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার করবে এবং জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আটঘরিয়ার সড়কে দুর্ভোগ চরমে, বর্ষার আগে দ্রুত সংস্কারের দাবি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

উন্নয়নের নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও উপজেলার একাধিক সড়কের ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে এসব সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবোত্তর থেকে কয়ড়াবাড়ি অভিমুখে সূতার ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে সড়ক ভেঙে রাস্তার মূল অংশের সঙ্গে মিশে গেছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের পূর্ব পাশে নতুন ঢালাই রাস্তা এবং পশ্চিম পাশে নতুন করে পিচঢালাই করা হলেও মাঝখানের প্রায় ৫০ গজ সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে আছে। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—কেন এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটির কাজ এখনো শেষ করা হয়নি?

এদিকে উপজেলার আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। জালালের ঢাল থেকে বিদ্যুৎ স্টেশন পর্যন্ত সড়কে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত, যা যান চলাচলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কে ল্যাবরেটরি কোম্পানির পাশের সড়কেও ব্যাপক ভাঙনের চিত্র দেখা গেছে।

একইভাবে আব্দুস সোবহান মোল্লার রাইস মিল সংলগ্ন সড়কের একাংশ ভেঙে পাশের পুকুরের দিকে ধসে পড়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এছাড়াও মতিঝিল ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ব্রিজের পাশের রাস্তা, চাঁদপুর কবরস্থানের প্রাচীর ঘেঁষা সড়ক, মেঘার ঢাল থেকে ময়েন আমিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা এবং জুমাইখিড়ি সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এসব সড়ক এখন জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করে সূতার ব্রিজের দুই পাশের ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচল করতে গেলে সবসময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করি। রাস্তার বড় বড় গর্তের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বর্ষা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “উন্নয়নের নামে অনেক জায়গায় কাজ হচ্ছে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু রাস্তার ভাঙা অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমে।”

এ বিষয়ে দেবোত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব রতন মোল্লা বলেন, “দেবোত্তর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে।”স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার করবে এবং জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।