ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ঈদ সামনে, তবু হাসি নেই কামারপল্লীতে

সুজন কুমার মন্ডল, জয়পুরহাট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:২২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে জয়পুরহাটের কামারপল্লীগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুন-হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে কামারশালাগুলো। কেউ তৈরি করছেন ছুরি, দা ও বটি, আবার কেউ পুরোনো সরঞ্জামে ধার দিচ্ছেন। তবে কাজের চাপ থাকলেও মুখে হাসি নেই কামারদের। আধুনিক বিদেশি পণ্যের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প।

জয়পুরহাটের কালাই ও সদর উপজেলার বিভিন্ন কামারপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নানা ধরনের সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। কিন্তু আগের মতো বিক্রি না থাকায় হতাশ তারা। অনেকেই পেশা বদল করলেও এখনও কিছু পরিবার ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।

জয়পুরহাট সদরের দুর্গাদহ কর্মকারপাড়ার কামার বিকাশ বলেন, “আগের মতো কাজ নেই। মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কমে গেছে। আলু ও ধানের দাম না থাকায় বিক্রিও কম।”

কারিগররা জানান, এবার মান ও ওজনভেদে ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০০ টাকায়, দা ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায় এবং বটি ২০০ থেকে ৭০০ টাকায়। কাঁচামালের দাম বেড়ে গেলেও ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে কম লাভে পণ্য বিক্রি করছেন তারা।

শহরের কামার সুজন বলেন, “কোরবানির ঈদে কাজের যে চাপ থাকার কথা, এবার সেটা নেই। টুকটাক কাজ হচ্ছে। সরকার সহযোগিতা করলে আমরা এই পেশা টিকিয়ে রাখতে পারব।”

ক্রেতারাও বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে কয়লা ও লোহার দাম বৃদ্ধির পরও কামাররা তুলনামূলক কম দাম রাখার চেষ্টা করছেন।

জয়পুরহাট জেলা বিসিক কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ জানান, ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

একসময় গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল কামারশালা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আধুনিক ও বিদেশি পণ্যের বাজার বিস্তারে সেই ঐতিহ্য আজ সংকটে। তবুও আগুন আর হাতুড়ির শব্দে জীবিকা ও ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন জয়পুরহাটের কামাররা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঈদ সামনে, তবু হাসি নেই কামারপল্লীতে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:২২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে জয়পুরহাটের কামারপল্লীগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুন-হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে কামারশালাগুলো। কেউ তৈরি করছেন ছুরি, দা ও বটি, আবার কেউ পুরোনো সরঞ্জামে ধার দিচ্ছেন। তবে কাজের চাপ থাকলেও মুখে হাসি নেই কামারদের। আধুনিক বিদেশি পণ্যের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প।

জয়পুরহাটের কালাই ও সদর উপজেলার বিভিন্ন কামারপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নানা ধরনের সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। কিন্তু আগের মতো বিক্রি না থাকায় হতাশ তারা। অনেকেই পেশা বদল করলেও এখনও কিছু পরিবার ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।

জয়পুরহাট সদরের দুর্গাদহ কর্মকারপাড়ার কামার বিকাশ বলেন, “আগের মতো কাজ নেই। মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কমে গেছে। আলু ও ধানের দাম না থাকায় বিক্রিও কম।”

কারিগররা জানান, এবার মান ও ওজনভেদে ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০০ টাকায়, দা ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায় এবং বটি ২০০ থেকে ৭০০ টাকায়। কাঁচামালের দাম বেড়ে গেলেও ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে কম লাভে পণ্য বিক্রি করছেন তারা।

শহরের কামার সুজন বলেন, “কোরবানির ঈদে কাজের যে চাপ থাকার কথা, এবার সেটা নেই। টুকটাক কাজ হচ্ছে। সরকার সহযোগিতা করলে আমরা এই পেশা টিকিয়ে রাখতে পারব।”

ক্রেতারাও বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে কয়লা ও লোহার দাম বৃদ্ধির পরও কামাররা তুলনামূলক কম দাম রাখার চেষ্টা করছেন।

জয়পুরহাট জেলা বিসিক কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ জানান, ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

একসময় গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল কামারশালা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আধুনিক ও বিদেশি পণ্যের বাজার বিস্তারে সেই ঐতিহ্য আজ সংকটে। তবুও আগুন আর হাতুড়ির শব্দে জীবিকা ও ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন জয়পুরহাটের কামাররা।