ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

লাইভ ওজনে বিক্রি, ঈদের জন্য প্রস্তুত ১১০ দেশি ষাঁড়

আজিজুল হক সরকার, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১১০টি দেশি ষাঁড়। উপজেলার স্বজনপুকুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আমিন এগ্রো ফার্মে বর্তমানে আড়াই শতাধিক গরু রয়েছে। পাশাপাশি ছাগল, ভেড়া, হাঁস ও অন্যান্য প্রাণিও পালন করা হচ্ছে। খামারে সরাসরি এসে ক্রেতারা ৫০০ থেকে ৫১০ টাকা কেজি দরে লাইভ ওজনে গরু কিনতে পারছেন।

ফুলবাড়ী-রংপুর মহাসড়কের পাশে কয়েক একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে এই খামার। শিল্পপতি রুহুল আমিন প্রায় পাঁচ বছর আগে শখের বশে খামারটি শুরু করলেও বর্তমানে এটি উপজেলার অন্যতম বৃহৎ খামারে পরিণত হয়েছে। অটো রাইস মিল ও ইটভাটার পাশাপাশি খামারটিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে ধাপে ধাপে।

খামার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে ৭৫টি দেশি ষাঁড় ও ৩৫টি বকনা গরু রয়েছে। এসব গরুর ওজন ১৮০ থেকে ৩৫০ কেজির মধ্যে। এছাড়া গাভী ও বাছুরও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। কোরবানির বাজারে একেকটি গরুর দাম ধরা হচ্ছে ৭৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বড় গরু বিক্রিও হয়েছে।

খামারের ম্যানেজার মো. ওমর ফারুক জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী খামারে নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়। দেশি জাতের পাশাপাশি ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল ও হরিয়ানা জাতের গরুও রয়েছে। গরুকে খাওয়ানো হয় নিজস্ব মিলের খুদ-ভুসি, খৈল, ঘাস ও খড়। নিজেদের জমিতে উৎপাদিত ঘাস ও ভুট্টা ব্যবহার করে খামারেই প্রস্তুত করা হয় পুষ্টিকর খাদ্য।

তিনি বলেন, বাজারের কৃত্রিম ফিডের বদলে প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহারের কারণে খামারে রোগবালাই কম হয়। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত টিকা ও ভ্যাকসিনও দেওয়া হচ্ছে।

খামারের উদ্যোক্তা রুহুল আমিন বলেন, “খামার এখন লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। আমাদের খামারের গরু ও অন্যান্য প্রাণী সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পালন করা হয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও কোরবানির পশু বিক্রির জন্য যুক্ত হয়েছি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা যোগাযোগ করছেন।”

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সারোয়ার হাসান জানান, উপজেলায় মোট খামারির সংখ্যা ৪ হাজার ৪১২ জন। কোরবানির জন্য উপজেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে এবং উদ্বৃত্ত পশুও রয়েছে কয়েক হাজার।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের মতে, এই খামার শুধু ব্যবসায়িক সফলতাই নয়, এলাকায় নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে। অনেকেই খামারটি পরিদর্শন করে পশুপালনে আগ্রহী হচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

লাইভ ওজনে বিক্রি, ঈদের জন্য প্রস্তুত ১১০ দেশি ষাঁড়

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১১০টি দেশি ষাঁড়। উপজেলার স্বজনপুকুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আমিন এগ্রো ফার্মে বর্তমানে আড়াই শতাধিক গরু রয়েছে। পাশাপাশি ছাগল, ভেড়া, হাঁস ও অন্যান্য প্রাণিও পালন করা হচ্ছে। খামারে সরাসরি এসে ক্রেতারা ৫০০ থেকে ৫১০ টাকা কেজি দরে লাইভ ওজনে গরু কিনতে পারছেন।

ফুলবাড়ী-রংপুর মহাসড়কের পাশে কয়েক একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে এই খামার। শিল্পপতি রুহুল আমিন প্রায় পাঁচ বছর আগে শখের বশে খামারটি শুরু করলেও বর্তমানে এটি উপজেলার অন্যতম বৃহৎ খামারে পরিণত হয়েছে। অটো রাইস মিল ও ইটভাটার পাশাপাশি খামারটিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে ধাপে ধাপে।

খামার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে ৭৫টি দেশি ষাঁড় ও ৩৫টি বকনা গরু রয়েছে। এসব গরুর ওজন ১৮০ থেকে ৩৫০ কেজির মধ্যে। এছাড়া গাভী ও বাছুরও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। কোরবানির বাজারে একেকটি গরুর দাম ধরা হচ্ছে ৭৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বড় গরু বিক্রিও হয়েছে।

খামারের ম্যানেজার মো. ওমর ফারুক জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী খামারে নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়। দেশি জাতের পাশাপাশি ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল ও হরিয়ানা জাতের গরুও রয়েছে। গরুকে খাওয়ানো হয় নিজস্ব মিলের খুদ-ভুসি, খৈল, ঘাস ও খড়। নিজেদের জমিতে উৎপাদিত ঘাস ও ভুট্টা ব্যবহার করে খামারেই প্রস্তুত করা হয় পুষ্টিকর খাদ্য।

তিনি বলেন, বাজারের কৃত্রিম ফিডের বদলে প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহারের কারণে খামারে রোগবালাই কম হয়। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত টিকা ও ভ্যাকসিনও দেওয়া হচ্ছে।

খামারের উদ্যোক্তা রুহুল আমিন বলেন, “খামার এখন লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। আমাদের খামারের গরু ও অন্যান্য প্রাণী সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পালন করা হয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও কোরবানির পশু বিক্রির জন্য যুক্ত হয়েছি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা যোগাযোগ করছেন।”

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সারোয়ার হাসান জানান, উপজেলায় মোট খামারির সংখ্যা ৪ হাজার ৪১২ জন। কোরবানির জন্য উপজেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে এবং উদ্বৃত্ত পশুও রয়েছে কয়েক হাজার।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের মতে, এই খামার শুধু ব্যবসায়িক সফলতাই নয়, এলাকায় নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে। অনেকেই খামারটি পরিদর্শন করে পশুপালনে আগ্রহী হচ্ছেন।