ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

১৮০০ টাকা বাঁচাতে ট্রাকে উঠেছিল ৯ বন্ধু, ঈদের আগেই ফিরল নিথর দেহ

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদের আনন্দটা এবারও পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন—এই স্বপ্ন নিয়েই নোয়াখালী থেকে বাড়ির পথে রওনা হয়েছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৯ বন্ধু। কারও হাতে ছিল মায়ের জন্য ছোট উপহার, কেউ ভাবছিলেন কোরবানির ঈদে ছোট ভাইবোনদের সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা। কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হলো না তাদের।

মাত্র ১৮০০ টাকা ভাড়া বেশি হওয়ায় বাসে না উঠে তারা উঠেছিলেন একটি রডবোঝাই ট্রাকে। সেই সামান্য টাকা বাঁচানোর সিদ্ধান্তই কেড়ে নিল তাদের জীবন।

টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে ঝরে গেছে ১৫টি প্রাণ। এর মধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের ৯ যুবক ছিলেন। একসঙ্গে কাজ করা, একসঙ্গে পথচলা—শেষ যাত্রাটাও হলো একসঙ্গেই।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নোয়াখালী থেকে আসা রডবোঝাই ট্রাকটি যমুনা সেতুর পূর্ব পাশে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। মুহূর্তেই ট্রাকটি উল্টে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আর্তনাদ, রক্ত আর স্বজন হারানোর বিভীষিকা।

হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল মিলিয়ে নিহত হন ১৫ জন। গুরুতর আহত আরও অন্তত ১০ জন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের মোহাম্মদ তারেক, আব্দুল বারেক, বাদশা, সোহাগ, রবিউল ও সাগর। এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের দুই ভাই মাইনুল ও গিয়াসও প্রাণ হারিয়েছেন।

তারেকের বাবা সুলতান হোসেন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তার ছেলে ও তার বন্ধুরা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে মানুষের ফেলে দেওয়া চুল, ভাঙা মোবাইল আর ছোট ছোট খেলনা কিনে-বেচে জীবিকা চালাতেন। অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে ঈদে বাড়ি ফিরছিলেন তারা।

তিনি বলেন, “বাসে ১৮০০ টাকা বেশি চাইল। তাই সবাই মিলে ট্রাকে উঠে। একটু টাকা বাঁচাতে গিয়েই আজ আমার ছেলে আর ফিরল না… সব শেষ হয়ে গেল।”

ভারশোঁ ইউনিয়নের বাতাস এখন ভারী হয়ে আছে কান্নায়। যে বাড়িগুলোতে ঈদের আনন্দের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে এখন শুধু স্বজন হারানোর আহাজারি। কোনো মা বারবার ছেলের নাম ধরে ডাকছেন, কোনো বাবা নিথর হয়ে বসে আছেন উঠানে।

একই এলাকার ৯ যুবকের একসঙ্গে মৃত্যু যেন পুরো জনপদকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ঈদের আগে যে বাড়িগুলো আলোয় ভরে ওঠার কথা ছিল, সেখানে নেমে এসেছে অন্ধকার আর শোকের দীর্ঘ ছায়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

১৮০০ টাকা বাঁচাতে ট্রাকে উঠেছিল ৯ বন্ধু, ঈদের আগেই ফিরল নিথর দেহ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ঈদের আনন্দটা এবারও পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন—এই স্বপ্ন নিয়েই নোয়াখালী থেকে বাড়ির পথে রওনা হয়েছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৯ বন্ধু। কারও হাতে ছিল মায়ের জন্য ছোট উপহার, কেউ ভাবছিলেন কোরবানির ঈদে ছোট ভাইবোনদের সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা। কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হলো না তাদের।

মাত্র ১৮০০ টাকা ভাড়া বেশি হওয়ায় বাসে না উঠে তারা উঠেছিলেন একটি রডবোঝাই ট্রাকে। সেই সামান্য টাকা বাঁচানোর সিদ্ধান্তই কেড়ে নিল তাদের জীবন।

টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে ঝরে গেছে ১৫টি প্রাণ। এর মধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের ৯ যুবক ছিলেন। একসঙ্গে কাজ করা, একসঙ্গে পথচলা—শেষ যাত্রাটাও হলো একসঙ্গেই।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নোয়াখালী থেকে আসা রডবোঝাই ট্রাকটি যমুনা সেতুর পূর্ব পাশে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। মুহূর্তেই ট্রাকটি উল্টে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আর্তনাদ, রক্ত আর স্বজন হারানোর বিভীষিকা।

হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল মিলিয়ে নিহত হন ১৫ জন। গুরুতর আহত আরও অন্তত ১০ জন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের মোহাম্মদ তারেক, আব্দুল বারেক, বাদশা, সোহাগ, রবিউল ও সাগর। এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের দুই ভাই মাইনুল ও গিয়াসও প্রাণ হারিয়েছেন।

তারেকের বাবা সুলতান হোসেন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তার ছেলে ও তার বন্ধুরা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে মানুষের ফেলে দেওয়া চুল, ভাঙা মোবাইল আর ছোট ছোট খেলনা কিনে-বেচে জীবিকা চালাতেন। অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে ঈদে বাড়ি ফিরছিলেন তারা।

তিনি বলেন, “বাসে ১৮০০ টাকা বেশি চাইল। তাই সবাই মিলে ট্রাকে উঠে। একটু টাকা বাঁচাতে গিয়েই আজ আমার ছেলে আর ফিরল না… সব শেষ হয়ে গেল।”

ভারশোঁ ইউনিয়নের বাতাস এখন ভারী হয়ে আছে কান্নায়। যে বাড়িগুলোতে ঈদের আনন্দের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে এখন শুধু স্বজন হারানোর আহাজারি। কোনো মা বারবার ছেলের নাম ধরে ডাকছেন, কোনো বাবা নিথর হয়ে বসে আছেন উঠানে।

একই এলাকার ৯ যুবকের একসঙ্গে মৃত্যু যেন পুরো জনপদকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ঈদের আগে যে বাড়িগুলো আলোয় ভরে ওঠার কথা ছিল, সেখানে নেমে এসেছে অন্ধকার আর শোকের দীর্ঘ ছায়া।