পুলিশে অবসর ইস্যুতে নতুন করে অস্বস্তি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
পুলিশ বাহিনীতে একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং বিভিন্ন জেলায় এসপি পর্যায়ে রদবদলের ঘটনায় বাহিনীর ভেতরে অস্থিরতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও সতর্ক অবস্থান দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে অবসরে পাঠানো ও দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের ঘটনায় অনেক কর্মকর্তা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা ও প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, পূর্ব কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেকে এটিকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখছেন। এতে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ মনোবলে প্রভাব পড়ছে বলেও তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, শৃঙ্খলা রক্ষা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এসপি প্রত্যাহার ও অবসরে ঘনীভূত উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সময়ে ফেনী ও পঞ্চগড় জেলার নতুন নিয়োগ পাওয়া দুই পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একই সময়ে একাধিক ডিআইজি পর্যায়ের কর্মকর্তাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে—এমন তথ্য সামনে আসার পর পুলিশ বাহিনীতে আলোচনা আরও জোরালো হয়।
সূত্র বলছে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, অভিযোগ বা পুরোনো ফাইল পুনর্মূল্যায়নের আশঙ্কায় অনেক কর্মকর্তা এখন অতিরিক্ত সতর্কতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন।
কর্মকর্তাদের মধ্যে “অনিশ্চয়তার পরিবেশ”
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পদায়ন, বদলি বা অবসরের সিদ্ধান্তে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে “পদ হারানোর আতঙ্ক” তৈরি হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক কাজের গতি ও মনোযোগে প্রভাব পড়ছে বলে তারা মনে করছেন।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব পদক্ষেপ আইন ও নিয়ম অনুযায়ীই নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে না।
তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বললেন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বাধ্যতামূলক অবসরসহ এসব পদক্ষেপ মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ। তিনি বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো কর্মকর্তার প্রতি যাতে অবিচার না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের নীরবতা ও সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতামত
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন চলতে থাকলে পুলিশ বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত এক বছরে কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও কক্সবাজারসহ একাধিক জেলার পুলিশ সুপারদের বিভিন্ন অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ১৬ জন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
এতে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। অনেক কর্মকর্তা এখন দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি সতর্ক বলে জানা গেছে।
























