দায়িত্বশীল শিশুই ভবিষ্যতের সফল মানুষ—হার্ভার্ড গবেষণার ইঙ্গিত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
সন্তান যেন জীবনে সফল হয়—এটাই প্রত্যেক বাবা-মায়ের স্বপ্ন। পড়াশোনা ও খেলাধুলার পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে বড় ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণা।
প্রায় ৮৫ বছর ধরে পরিচালিত ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ছোটবেলা থেকেই যারা ঘরের ছোটখাটো কাজে অংশ নেয় এবং পরিবারের কাজে সাহায্য করে, তারা বড় হয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে তুলনামূলকভাবে বেশি সফল ও দায়িত্বশীল হয়। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে সুখী ও স্বাবলম্বী হওয়ার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়।
গবেষকদের মতে, শিশুরা বড়দের আচরণ, কথা বলা এবং সমস্যা সমাধানের ধরণ অনুকরণ করে শেখে। তাই ছোট থেকেই দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও আত্মনির্ভরতার ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।
ঘরের কাজ থেকে কী শেখে শিশু
গবেষণায় বলা হয়—
- ছোটবেলা থেকেই কাজ করার অভ্যাস শিশুকে শেখায়, সাফল্যের জন্য পরিশ্রম প্রয়োজন।
- নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখা বা বিছানা পরিষ্কার করার মতো কাজ আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
- পরিবারের কাজে অংশ নিলে শিশুর মধ্যে অন্যের পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা ও টিমওয়ার্কের ধারণা তৈরি হয়।
কীভাবে গড়ে তুলবেন অভ্যাস
গবেষণায় অভিভাবকদের জন্য কিছু পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। যেমন—
- ঘুম থেকে উঠে নিজের বিছানা গুছিয়ে রাখা শেখানো
- খেলনা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা
- খাবারের পর নিজের থালাবাটি গুছিয়ে রাখা
- কাপড়-চোপড় আলমারিতে ঝুলিয়ে রাখার অভ্যাস করানো
- পড়ার জায়গা পরিষ্কার রাখা ও গুছিয়ে রাখা
- গাছের পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়া
এছাড়া বাবা-মায়ের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিভাবকরা যদি নিজের কাজ নিজে গুছিয়ে করেন, তাহলে শিশুরাও তা অনুসরণ করে শেখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরের ছোট ছোট দায়িত্বই শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি শক্ত করে তোলে এবং তাদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।


























