ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষির নতুন রূপান্তরের আশা

ডিজিটাল ডাটাবেজে আসছে পৌনে ৩ কোটি কৃষক-খামারি

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের কৃষি অর্থনীতির প্রাণভোমরা সেই কৃষকরাই এতদিন ছিলেন অনেকটা “অদৃশ্য”। মাঠে সোনালি ধান ফলানো, গোয়ালে গবাদিপশু লালন, পুকুরে মাছ চাষ—সবকিছুর ভরসা তারা, অথচ রাষ্ট্রীয় সুবিধার ক্ষেত্রে অনেকেই থেকে গেছেন হিসাবের বাইরে।

এবার সেই বাস্তবতা বদলানোর উদ্যোগ হিসেবে আসছে ডিজিটাল কৃষক ডাটাবেজ। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশে প্রায় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ মানুষকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থায় কৃষকরা পাবেন একটি “কৃষক কার্ড”, যার মাধ্যমে তারা সহজে পাবেন সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, স্বল্পসুদে ঋণ, কৃষি বীমা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সুবিধা। পাশাপাশি মোবাইলেই মিলবে আবহাওয়া ও বাজারদরের তথ্য—যা কৃষকের সিদ্ধান্তকে আরও সহজ করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে কৃষিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসতে পারে। কৃষক সরাসরি সুবিধা পেলে উৎপাদন ও ন্যায্যমূল্য—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তবে প্রশ্নও রয়ে গেছে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সঠিক ও স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করা। স্থানীয় পর্যায়ে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব বা তথ্য জালিয়াতি হলে প্রকৃত কৃষকরা আবারও বঞ্চিত হতে পারেন।

এর আগে ২০২২ সালে স্মার্ট কৃষি কার্ড প্রকল্প নিয়েও বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সেই প্রকল্প মাঝপথে থেমে যায়—যা নতুন উদ্যোগের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

সব মিলিয়ে, এই ডিজিটাল কৃষক ডাটাবেজ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে তা দেশের কৃষিখাতে এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে—যেখানে কৃষক আর শুধু উৎপাদক নন, বরং রাষ্ট্রীয় নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একজন স্বীকৃত নাগরিক।

এদিকে, আগামী ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণে প্রি-পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল সদরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে জানায়, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ১০টি উপজেলায় একযোগে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হবে।

উপজেলাগুলো হল: টাঙ্গাইল সদর; পঞ্চগড় সদর; পঞ্চগড়ের বোদা; বগুড়ার শিবগঞ্জ; ঝিনাইদহের শৈলকুপা; পিরোজপুরের নেছারাবাদ; কক্সবাজারের টেকনাফ; কুমিল্লার আদর্শ সদর; জামালপুরের ইসলামপুর; রাজাবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজার জুড়ী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কৃষির নতুন রূপান্তরের আশা

ডিজিটাল ডাটাবেজে আসছে পৌনে ৩ কোটি কৃষক-খামারি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

দেশের কৃষি অর্থনীতির প্রাণভোমরা সেই কৃষকরাই এতদিন ছিলেন অনেকটা “অদৃশ্য”। মাঠে সোনালি ধান ফলানো, গোয়ালে গবাদিপশু লালন, পুকুরে মাছ চাষ—সবকিছুর ভরসা তারা, অথচ রাষ্ট্রীয় সুবিধার ক্ষেত্রে অনেকেই থেকে গেছেন হিসাবের বাইরে।

এবার সেই বাস্তবতা বদলানোর উদ্যোগ হিসেবে আসছে ডিজিটাল কৃষক ডাটাবেজ। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশে প্রায় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ মানুষকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থায় কৃষকরা পাবেন একটি “কৃষক কার্ড”, যার মাধ্যমে তারা সহজে পাবেন সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, স্বল্পসুদে ঋণ, কৃষি বীমা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সুবিধা। পাশাপাশি মোবাইলেই মিলবে আবহাওয়া ও বাজারদরের তথ্য—যা কৃষকের সিদ্ধান্তকে আরও সহজ করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে কৃষিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসতে পারে। কৃষক সরাসরি সুবিধা পেলে উৎপাদন ও ন্যায্যমূল্য—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তবে প্রশ্নও রয়ে গেছে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সঠিক ও স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করা। স্থানীয় পর্যায়ে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব বা তথ্য জালিয়াতি হলে প্রকৃত কৃষকরা আবারও বঞ্চিত হতে পারেন।

এর আগে ২০২২ সালে স্মার্ট কৃষি কার্ড প্রকল্প নিয়েও বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সেই প্রকল্প মাঝপথে থেমে যায়—যা নতুন উদ্যোগের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

সব মিলিয়ে, এই ডিজিটাল কৃষক ডাটাবেজ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে তা দেশের কৃষিখাতে এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে—যেখানে কৃষক আর শুধু উৎপাদক নন, বরং রাষ্ট্রীয় নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একজন স্বীকৃত নাগরিক।

এদিকে, আগামী ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণে প্রি-পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল সদরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে জানায়, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ১০টি উপজেলায় একযোগে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হবে।

উপজেলাগুলো হল: টাঙ্গাইল সদর; পঞ্চগড় সদর; পঞ্চগড়ের বোদা; বগুড়ার শিবগঞ্জ; ঝিনাইদহের শৈলকুপা; পিরোজপুরের নেছারাবাদ; কক্সবাজারের টেকনাফ; কুমিল্লার আদর্শ সদর; জামালপুরের ইসলামপুর; রাজাবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজার জুড়ী।