কলমের ছদ্মবেশে মৃত্যু: ঢাকায় ‘পেনগান’ আতঙ্কে নড়েচড়ে বসেছে গোয়েন্দারা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:২৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
দেখতে একেবারেই সাধারণ—পকেটে রাখা একটি কলম। কেউ সন্দেহও করবে না। কিন্তু সেই কলমই মুহূর্তে হয়ে উঠতে পারে মারণাস্ত্র। ঢাকার অপরাধ জগতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এই ‘পেনগান’।
সম্প্রতি পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় দিনের আলোয় সংঘটিত এক গুলির ঘটনায় সামনে আসে এই ভয়ংকর অস্ত্রের অস্তিত্ব। এক যুবদল নেতাকে লক্ষ্য করে চালানো সেই হামলার তদন্ত করতে গিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) খুঁজে পায় কলমের মতো দেখতে এই ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র।
গোয়েন্দাদের ভাষায়, এটি কোনো সাধারণ অস্ত্র নয়। প্রায় ৬ ইঞ্চি লম্বা এই পেনগানের ভেতরে রাখা যায় শূন্য দশমিক ২২ ক্যালিবার বুলেট। বাইরে থেকে একেবারে নিরীহ দেখালেও, ভেতরে লুকিয়ে থাকে প্রাণঘাতী ক্ষমতা। একটি ক্লিপই ট্রিগারের কাজ করে—চাপ দিলেই ছুটে যেতে পারে গুলি।
ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে যাত্রাবাড়ী ও কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে সাইমন ও সোহেল ওরফে কাল্লু নামে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয় এই অস্ত্র। জানা গেছে, চোরাই বাজার থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকায় এটি সংগ্রহ করা হয়েছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য—এ ধরনের অস্ত্র চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করছে। এগুলো এতটাই ছোট এবং ছদ্মবেশী যে সহজেই নজর এড়িয়ে যেতে পারে। কখনও সিগারেটের প্যাকেটে, কখনও দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসে লুকিয়ে রাখা হয় এগুলো।
গোয়েন্দারা বলছেন, আধুনিক নগর অপরাধে এখন বড় অস্ত্রের চেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে এমন ক্ষুদ্র ও সহজে বহনযোগ্য অস্ত্র। লিপস্টিক, মানিব্যাগ, এমনকি বেল্টের ভেতরেও লুকিয়ে রাখা যায় এই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. নাসিরুল ইসলাম জানান, প্রথমে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে সাইমনকে এবং পরে কেরানীগঞ্জ থেকে কাল্লুকে গ্রেফতার করা হয়। কাল্লুর কাছ থেকেই ‘পেনগান’ নামে পরিচিত অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি কোনো সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্র নয় এবং এর আগে ঢাকায় এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
অস্ত্রটি কীভাবে দেশে এসেছে, কারা এর পাচারের সঙ্গে জড়িত এবং অন্য কোথাও এর ব্যবহার হয়েছে কিনা—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে একাধিক টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এই নতুন হুমকি শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ যে জিনিসটিকে আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করি, সেটিই যদি হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী অস্ত্র—তাহলে নিরাপত্তার সংজ্ঞাই যেন বদলে যায়।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই অদৃশ্য অস্ত্রের বিস্তার কত দূর? আর সময় থাকতে তা ঠেকানো যাবে তো?
























