ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুরুষদের জন্য আসছে নতুন গর্ভনিরোধক, দাবি বিজ্ঞানীদের

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জন্ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এতদিন নারীদের ওপরই বেশি নির্ভরতা ছিল। তবে এবার সেই চিত্র বদলাতে পারে। পুরুষদের জন্য নিরাপদ, সাময়িক ও হরমোনবিহীন গর্ভনিরোধক পদ্ধতি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

দীর্ঘদিন ধরেই পুরুষদের জন্য কার্যকর গর্ভনিরোধক তৈরির চেষ্টা চললেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কায় তা বাস্তব প্রয়োগে আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর গবেষকরা এ ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, নতুন এই পদ্ধতি নিরাপদ এবং প্রয়োজনে পুনরায় স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে পাওয়া সম্ভব।

গবেষকদের মতে, পুরুষদেহে শুক্রাণু তৈরি হয় মায়োসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট ধাপে সাময়িক বাধা সৃষ্টি করলেই শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ করা যায়, যা শরীরের অন্য কোনো ক্ষতি করে না।

এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস সাময়িকীতে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘জেকিউ১’ (JQ1) নামের একটি যৌগ ব্যবহার করে মায়োসিসের ‘প্রফেজ-১’ ধাপে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে সাময়িকভাবে শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ রাখা যায়।

গবেষণার নেতৃত্বে থাকা জিনবিদ্যার অধ্যাপক পলা কোহেন জানান, এই পদ্ধতিতে কোনো অস্ত্রোপচার প্রয়োজন নেই এবং স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকিও নেই। প্রয়োজনে বন্ধ করার পর আবার স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসে এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।

বর্তমানে পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের উপায় হিসেবে কন্ডোম ও ভ্যাসেকটমি (স্থায়ী অস্ত্রোপচার) ছাড়া তেমন কোনো কার্যকর পদ্ধতি নেই। কন্ডোম শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়, আবার ভ্যাসেকটমি অনেকেই করতে চান না। তাই নতুন এই পদ্ধতিকে সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষাগারে পুরুষ ইঁদুরের ওপর তিন সপ্তাহ ‘জেকিউ১’ প্রয়োগে সম্পূর্ণভাবে শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল। পরে প্রয়োগ বন্ধ করার ছয় সপ্তাহের মধ্যে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং তাদের প্রজনন ক্ষমতায় কোনো স্থায়ী প্রভাব পড়েনি।

তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানুষের শরীরে প্রয়োগের আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই গর্ভনিরোধক প্রতি তিন মাস অন্তর ইনজেকশনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পুরুষদের জন্য আসছে নতুন গর্ভনিরোধক, দাবি বিজ্ঞানীদের

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

জন্ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এতদিন নারীদের ওপরই বেশি নির্ভরতা ছিল। তবে এবার সেই চিত্র বদলাতে পারে। পুরুষদের জন্য নিরাপদ, সাময়িক ও হরমোনবিহীন গর্ভনিরোধক পদ্ধতি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

দীর্ঘদিন ধরেই পুরুষদের জন্য কার্যকর গর্ভনিরোধক তৈরির চেষ্টা চললেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কায় তা বাস্তব প্রয়োগে আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর গবেষকরা এ ক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, নতুন এই পদ্ধতি নিরাপদ এবং প্রয়োজনে পুনরায় স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে পাওয়া সম্ভব।

গবেষকদের মতে, পুরুষদেহে শুক্রাণু তৈরি হয় মায়োসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট ধাপে সাময়িক বাধা সৃষ্টি করলেই শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ করা যায়, যা শরীরের অন্য কোনো ক্ষতি করে না।

এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস সাময়িকীতে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘জেকিউ১’ (JQ1) নামের একটি যৌগ ব্যবহার করে মায়োসিসের ‘প্রফেজ-১’ ধাপে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে সাময়িকভাবে শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ রাখা যায়।

গবেষণার নেতৃত্বে থাকা জিনবিদ্যার অধ্যাপক পলা কোহেন জানান, এই পদ্ধতিতে কোনো অস্ত্রোপচার প্রয়োজন নেই এবং স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকিও নেই। প্রয়োজনে বন্ধ করার পর আবার স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসে এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।

বর্তমানে পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের উপায় হিসেবে কন্ডোম ও ভ্যাসেকটমি (স্থায়ী অস্ত্রোপচার) ছাড়া তেমন কোনো কার্যকর পদ্ধতি নেই। কন্ডোম শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়, আবার ভ্যাসেকটমি অনেকেই করতে চান না। তাই নতুন এই পদ্ধতিকে সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষাগারে পুরুষ ইঁদুরের ওপর তিন সপ্তাহ ‘জেকিউ১’ প্রয়োগে সম্পূর্ণভাবে শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল। পরে প্রয়োগ বন্ধ করার ছয় সপ্তাহের মধ্যে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং তাদের প্রজনন ক্ষমতায় কোনো স্থায়ী প্রভাব পড়েনি।

তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানুষের শরীরে প্রয়োগের আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই গর্ভনিরোধক প্রতি তিন মাস অন্তর ইনজেকশনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যেতে পারে।