ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

​লক্ষ টাকার ভোজ, টাকা- টাকায়

শহিদুল ইসলাম দইচ
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:০৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 শহরের নিয়ন আলোগুলো যখন জ্বলে ওঠে, তখন একপাশে চলে লক্ষ টাকার জন্মদিনের ভোজ, আর ঠিক তার উল্টো পিঠের গলিতেই নেমে আসে এক গাঢ় অন্ধকার। পয়সার এই অদ্ভুত খেলায় পুরো সমাজটা যেন আজ এক অদ্ভুত খপ্পরে পড়েছে। যেখানে নীতি-নৈতিকতা আর বিচারবুদ্ধি টাকার বান্ডিলের নিচে চাপা পড়ে গেছে অনেক আগেই। পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, ক্ষমতার আর পয়সার গরমে ‘ইঁদুরও এখন বিড়ালকে তাড়া করতে’ দ্বিধা করে না।

​কামাল ছিল ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী আর দামাল ছেলেটা। তার চোখে ছিল আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন। কিন্তু নিয়তির পরিহাস আর অভাবের তাড়নায় আজ তার পিঠে বইয়ের ব্যাগের বদলে চেপে বসেছে হোটেলের নোংরা প্লেট-বাসন ধোয়ার ভার। সে এখন এক হোটেলের বয়। কামালের মতো কত শত ‘লেংটা ছেলে’ আজ পাঠশালা ছেড়ে ডাস্টবিনে ডাস্টবিনে কাগজ টোকাতে বাধ্য হচ্ছে।

​একদিকে যখন এক বিত্তশালীর ঘরের শিশুটির জন্মদিনে লক্ষ টাকার অপচয় চলে, ঠিক তখনই পাশের বস্তির ফুটফুটে শিশুটি, যে হয়তো দেশের কোনো ‘প্রাণ শিবিরে’ নিজের শৈশবকে বিকিয়ে দিচ্ছে, তার ক্ষুধার্ত পেটের খোঁজ নেওয়ার কেউ থাকে না।

​এই সমাজ শুধু শৈশবকেই কেড়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে তরুণদের ভবিষ্যৎও। বড় বড় ডিগ্রি নিয়েও যখন পয়সার অভাবে চাকরি মেলে না, তখন সেই হতাশায় কোনো এক ব্যর্থ নায়ক নিজেকে সঁপে দেয় মাদকের নীল দংশনে। ভুলে থাকতে চায় বাস্তবতাকে।

​অন্যদিককার এক তরুণী, যার চোখে ছিল এক বুক স্বপ্ন, সমাজের এই রূঢ় বৈষম্য আর টাকার নির্মম খেলা দেখে আজ তার জীবনের সংজ্ঞার প্রতিই তীব্র বিতৃষ্ণা চলে এসেছে।

​আর এই সর্বগ্রাসী পয়সার লোভ আর ক্ষমতার দাপট থেকেই জন্ম নেয় আজকের ‘কিশোর গ্যাং’। অল্প বয়সেই তারা বোঝে—টাকাই সব, টাকাই ক্ষমতা। আর এই সুযোগে একদল দালাল সমাজটাকে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।

কিন্তু আর কতকাল? এই হাহাকার থামানোর সময় এসেছে। সমাজের এই দালালদের মুখে লাথি মেরে, পয়সার এই অন্ধ মোহ থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে আবার এক হতে হবে। পয়সা যেন মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ না করে, মানুষ যেন পয়সাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। তবেই হয়তো কামালেরা আবার পাঠশালায় ফিরবে, আর কোনো শিশুকে ডাস্টবিনে কাগজ টোকাতে হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

​লক্ষ টাকার ভোজ, টাকা- টাকায়

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:০৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

 শহরের নিয়ন আলোগুলো যখন জ্বলে ওঠে, তখন একপাশে চলে লক্ষ টাকার জন্মদিনের ভোজ, আর ঠিক তার উল্টো পিঠের গলিতেই নেমে আসে এক গাঢ় অন্ধকার। পয়সার এই অদ্ভুত খেলায় পুরো সমাজটা যেন আজ এক অদ্ভুত খপ্পরে পড়েছে। যেখানে নীতি-নৈতিকতা আর বিচারবুদ্ধি টাকার বান্ডিলের নিচে চাপা পড়ে গেছে অনেক আগেই। পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, ক্ষমতার আর পয়সার গরমে ‘ইঁদুরও এখন বিড়ালকে তাড়া করতে’ দ্বিধা করে না।

​কামাল ছিল ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী আর দামাল ছেলেটা। তার চোখে ছিল আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন। কিন্তু নিয়তির পরিহাস আর অভাবের তাড়নায় আজ তার পিঠে বইয়ের ব্যাগের বদলে চেপে বসেছে হোটেলের নোংরা প্লেট-বাসন ধোয়ার ভার। সে এখন এক হোটেলের বয়। কামালের মতো কত শত ‘লেংটা ছেলে’ আজ পাঠশালা ছেড়ে ডাস্টবিনে ডাস্টবিনে কাগজ টোকাতে বাধ্য হচ্ছে।

​একদিকে যখন এক বিত্তশালীর ঘরের শিশুটির জন্মদিনে লক্ষ টাকার অপচয় চলে, ঠিক তখনই পাশের বস্তির ফুটফুটে শিশুটি, যে হয়তো দেশের কোনো ‘প্রাণ শিবিরে’ নিজের শৈশবকে বিকিয়ে দিচ্ছে, তার ক্ষুধার্ত পেটের খোঁজ নেওয়ার কেউ থাকে না।

​এই সমাজ শুধু শৈশবকেই কেড়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে তরুণদের ভবিষ্যৎও। বড় বড় ডিগ্রি নিয়েও যখন পয়সার অভাবে চাকরি মেলে না, তখন সেই হতাশায় কোনো এক ব্যর্থ নায়ক নিজেকে সঁপে দেয় মাদকের নীল দংশনে। ভুলে থাকতে চায় বাস্তবতাকে।

​অন্যদিককার এক তরুণী, যার চোখে ছিল এক বুক স্বপ্ন, সমাজের এই রূঢ় বৈষম্য আর টাকার নির্মম খেলা দেখে আজ তার জীবনের সংজ্ঞার প্রতিই তীব্র বিতৃষ্ণা চলে এসেছে।

​আর এই সর্বগ্রাসী পয়সার লোভ আর ক্ষমতার দাপট থেকেই জন্ম নেয় আজকের ‘কিশোর গ্যাং’। অল্প বয়সেই তারা বোঝে—টাকাই সব, টাকাই ক্ষমতা। আর এই সুযোগে একদল দালাল সমাজটাকে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।

কিন্তু আর কতকাল? এই হাহাকার থামানোর সময় এসেছে। সমাজের এই দালালদের মুখে লাথি মেরে, পয়সার এই অন্ধ মোহ থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে আবার এক হতে হবে। পয়সা যেন মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ না করে, মানুষ যেন পয়সাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। তবেই হয়তো কামালেরা আবার পাঠশালায় ফিরবে, আর কোনো শিশুকে ডাস্টবিনে কাগজ টোকাতে হবে না।