ডেঙ্গুর চাপ বাড়ছে, হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রোগীর চাপ সামাল দিতে দেশের সব হাসপাতালকে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে রাজধানীর হাসপাতালগুলোকে।
একই সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতাল চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। রোগীর চাপ কমাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কিছু রোগীকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার হাসপাতালে বাড়তি প্রস্তুতি
রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল থেকে কিছু রোগীকে বার্ন ইউনিটে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হবে।
এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেলে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
মুগদা ও কুর্মিটোলায় বিশেষ প্রস্তুতি
ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আরও শয্যা বাড়াতে বলা হয়েছে। রাজধানীর বাইরে থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসার জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিবর্তে কুর্মিটোলা মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালককে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ১০ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন।
চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯০ হাজার ৩৫৬ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৪ হাজার ২৯৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন।
ঢাকায় রোগীর চাপ বেশি
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বরিশালে ২০৪ জন, চট্টগ্রামে ২৫২ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৪৮০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৯৪ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮৭ জন রয়েছেন।
এ ছাড়া খুলনায় ৩০২, ময়মনসিংহে ৯৬, রাজশাহীতে ১৯৯, রংপুরে ৭৫ এবং সিলেটে ১৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরে মৃত্যু ২৮১
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১২৭ জন মারা গেছেন। খুলনায় ৫৫, চট্টগ্রামে ২৫, বরিশালে ২৪, ময়মনসিংহে ২৩, রাজশাহীতে ১৯, রংপুরে ৬ এবং সিলেটে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ১৩২ জন পুরুষ ও ১৪৫ জন নারী। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারীর হার ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
আগের বছরগুলোর চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের।
২০২৪ সালে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।
আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের।
রোগীর চাপ আরও বাড়লে যাতে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই আগাম শয্যা ও চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।






















