ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদে চাকরি, ২৩ শিক্ষককে দুদকের তলব খালের পাড়ে হাঁটার পথ, সবুজায়ন ও সৌন্দর্যায়ন—নতুন রূপে ঢাকা ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা ইরানের, ‘হামলা হলে আরও বড় যুদ্ধ’ নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে বাড়ছে পিংক বাস সেবা যশোরে পুলিশের বিশেষ অভিযান, ৬২ মোটরসাইকেল আটক; ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৫ এগ্রো ট্যুরিজমের নামে চরম ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের ফাঁদ কৃষকদের অবদানের স্বীকৃতিতে ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ ডেঙ্গুতে মারা গেলেন চিকিৎসক আঁচল রায় ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন নাহিদ ইসলামের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা: আমিনুল হক

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা: আমিনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী এবং একজন সংসদ সদস্যের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আমিনুল হক বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ হতে দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করে সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “এত বড় একটি ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আমি মর্মাহত। একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে রাতের আঁধারে বুলডোজার দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে ধ্বংস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমরা সমর্থন করি না।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, “যাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি বলেন, কোনো পক্ষের জমি বা স্থাপনা নিয়ে আইনি দাবি থাকলে আদালতের মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে। রাতের অন্ধকারে বুলডোজার ব্যবহার করে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে দেওয়ার সুযোগ কারও নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জায়গায় অবস্থিত উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। শিশুদের টিকাদান, প্রসূতি সেবা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দল বা সরকার এ ঘটনায় বিব্রত কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ঘটনায় আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে দলীয় এবং আইনগত—দুই ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তে ভবিষ্যতে কোনো দলীয় ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা উঠে এলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিনুল হক বলেন, “আমরা শতভাগ স্বচ্ছ তদন্ত চাই। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা: আমিনুল হক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী এবং একজন সংসদ সদস্যের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আমিনুল হক বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ হতে দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করে সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “এত বড় একটি ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আমি মর্মাহত। একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে রাতের আঁধারে বুলডোজার দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে ধ্বংস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমরা সমর্থন করি না।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, “যাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি বলেন, কোনো পক্ষের জমি বা স্থাপনা নিয়ে আইনি দাবি থাকলে আদালতের মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে। রাতের অন্ধকারে বুলডোজার ব্যবহার করে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে দেওয়ার সুযোগ কারও নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জায়গায় অবস্থিত উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। শিশুদের টিকাদান, প্রসূতি সেবা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দল বা সরকার এ ঘটনায় বিব্রত কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ঘটনায় আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে দলীয় এবং আইনগত—দুই ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তে ভবিষ্যতে কোনো দলীয় ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা উঠে এলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিনুল হক বলেন, “আমরা শতভাগ স্বচ্ছ তদন্ত চাই। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”