খালের পাড়ে হাঁটার পথ, সবুজায়ন ও সৌন্দর্যায়ন—নতুন রূপে ঢাকা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর খালগুলোকে দখলমুক্ত ও নান্দনিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৫৫টি খালের দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মাণ করা হবে রিটেইনিং ওয়াল।
এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৯টি খাল রয়েছে। খালের পাড় সংরক্ষণের পাশাপাশি নগরবাসীর চলাচল ও বিনোদনের সুযোগ বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডিএসসিসির ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দীপাড়া এলাকায় জিরানী খাল পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব তথ্য জানান।
পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, খালের দুই পাশে ওয়াকওয়ে ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হলে একদিকে যেমন পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে অবৈধ দখল ঠেকানো সহজ হবে। পাশাপাশি নগরবাসী খালের পাড়ে হাঁটা ও উন্মুক্ত বিনোদনের সুযোগ পাবেন।
তিনি জানান, ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ কমাতেও সরকার কাজ করছে। নগরীর পয়ঃবর্জ্য সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে পরিশোধন করে নদীতে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস্তবতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তবে খাল ও নদী রক্ষা শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, এ জন্য নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন।
জিরানী খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প
পরিদর্শন করা জিরানী খালের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৪ থেকে ২৫ মিটার। এটি কালুনগর, মান্ডা, জিরানী ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ের ৭০ শতাংশ সরকার এবং ৩০ শতাংশ ডিএসসিসি বহন করছে।
তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে মান্ডা খালের কাজ ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জিরানী খালের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, কালুনগর খালের ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শ্যামপুর খালের কাজ ২ দশমিক ০৫ শতাংশ এগিয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় চারটি খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন, স্লাজ অপসারণ, সীমানা নির্ধারণ ও স্লোপ প্রটেকশনের কাজ করা হবে। এছাড়া ৩২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৩৮ দশমিক ০৬ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী এবং ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
খালের পাড়ে ল্যান্ডস্কেপিং ও সবুজায়নের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ কমাতে আটটি ইটিপি নির্মাণ করা হবে।
উচ্ছেদ হবে অবৈধ স্থাপনা
প্রকল্পের আওতায় খালের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদের পরিকল্পনা রয়েছে। ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ১৪৯টি এবং পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী ১ হাজার ৫৯০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্য রয়েছে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে খালের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, অচল কালভার্ট অপসারণ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া—এসব বিষয়কে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। তবে পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















