ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা ইরানের, ‘হামলা হলে আরও বড় যুদ্ধ’

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধের হুঁশিয়ারির পরই পালটা বার্তা দিল ইরান। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে জবাব দিতে প্রস্তুত দেশটির সামরিক বাহিনী। এমন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে আগের চেয়েও বড় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইরান।
শনিবার ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সংঘাত বন্ধের বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানে আবারও হামলার হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরদিনই কঠোর অবস্থান জানায় ইরানি বাহিনী।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর সময়ের তুলনায় এখন ইরানি বাহিনী অনেক বেশি প্রস্তুত। সেনাবাহিনীতে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে এবং কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেনাদের সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে পরিস্থিতি আগের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা বাড়বে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ।
ইরানের এই বক্তব্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা রয়েছে। আকরামিনিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও এর প্রভাব থেকে বাদ যাবে না।
কূটনীতির বার্তা দিয়েছিল তেহরান
এর আগে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে বিরোধ মেটানোর পথ কূটনীতি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে শান্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান।
সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সংঘাত বন্ধের বিষয়ে ইরান প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
এমনকি মার্কিন এক কর্মকর্তাও রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে।
তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই কূটনৈতিক তৎপরতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
‘হামলা হলে জবাব দেব’
কয়েক দিন আগে রাষ্ট্রসংঘে দেওয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ইরান আত্মরক্ষার জন্য লড়াই করেছে এবং ভবিষ্যতের হুমকি মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। তবে তেহরান তার শক্তি আধিপত্য বিস্তারের কাজে ব্যবহার করতে চায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফলে একদিকে কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত থামানোর আলোচনা, অন্যদিকে পালটা সামরিক হুঁশিয়ারি—দুই বিপরীত বার্তায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিস্থিতি।
ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানের সর্বশেষ বার্তাও স্পষ্ট—নতুন হামলা হলে এবার আরও বড় সংঘাতের জন্য প্রস্তুত তেহরান।






















