ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অভিবাসন নীতি কঠোর করার আলোচনা, মিউনিখে ইইউর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঝটিকা মিছিলের পর ফেরার বার্তা আওয়ামী লীগের, পাল্টা মাঠে বিএনপি রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার নেপথ্যে নারী এমপি? উঠছে নানা প্রশ্ন বিশ্বমানের পর্যটনশিল্প গড়তে সরকারের অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী অনলাইনে হুঙ্কার নয়, বাংলাদেশের মাটিতে আসেন মাছের হাউসে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের যুক্তরাষ্ট্রে তারেক রহমানের পাঁচ দিনের সফরে কী কী হলো? ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে এখনই কাজ করতে হবে: এ্যানি তেল আছে, তবু সংকট—দাম বাড়ানোর আগে সরবরাহে টান? ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, নভেম্বরের পর হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ঝটিকা মিছিলের পর ফেরার বার্তা আওয়ামী লীগের, পাল্টা মাঠে বিএনপি

সুপন রায়
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ফের আলোচনায় এসেছে দলটির রাজনৈতিক তৎপরতা। এর মধ্যেই ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন। মাঠের কর্মসূচি ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন বক্তব্য মিলিয়ে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের আগে রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী আকস্মিক মিছিল বের করেন। এ সময় সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়।

এর এক সপ্তাহ পর ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই দিন কাফরুল থানার সামনে একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ২০ সেপ্টেম্বর কমলাপুর রেলস্টেশনে একটি ট্রেনের বগিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর বাড্ডা ও গুলশানে আবারও আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের খবর আসে।

ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতায় প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়েও। কারণ, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যে মিছিল করে দ্রুত সরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

পাল্টা কর্মসূচিতে বিএনপি

আওয়ামী লীগের এসব তৎপরতার প্রতিক্রিয়ায় মাঠে কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনগুলো।

২১ সেপ্টেম্বর বিএনপির যৌথসভায় বিভিন্ন ধরনের ‘অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল পৃথক কর্মসূচি পালন করে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। তবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন অবস্থানও দেখা গেছে।

দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার

দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের তৎপরতার পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য।

সেপ্টেম্বরে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং দেশে ফেরার বিষয়ে কথা বলেন তিনি। ২২ সেপ্টেম্বর এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশে ফিরে কারাবরণ করতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখার ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেন।

এর আগে জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

ফলে একদিকে দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগের ঝটিকা কর্মসূচি, অন্যদিকে দলটির সভাপতির দেশে ফেরার ঘোষণা—দুই ঘটনাই দলটির পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে আলোচনাকে আরও সামনে এনেছে।

সরকারের অবস্থান

আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থানও কঠোর।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যারা জড়িত, তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

২৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলার কথাও জানান তিনি।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আইনি অবস্থানেও পরিবর্তন

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সঙ্গে দলটির বর্তমান আইনি অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধানকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে।

তবে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের অভিন্ন অবস্থান সব সময় দেখা যায়নি। কেউ দলটির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন, আবার কেউ অপরাধে জড়িত নন—এমন ব্যক্তিদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ও দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জাসদ কার্যালয়ে অভিযান

এর মধ্যেই শনিবার রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ।

ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, সেখানে আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জন জড়ো হয়েছিলেন। তাদের থানায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারা কী উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অর্থাৎ সেপ্টেম্বরজুড়ে আওয়ামী লীগের আকস্মিক মিছিল ও সহিংসতার অভিযোগ, বিএনপির পাল্টা কর্মসূচি, সরকারের কঠোর অবস্থান এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা—সব মিলিয়ে দলটির পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন সামনে এসেছে।

আওয়ামী লীগ বাস্তবে কীভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে, তাদের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো কী রূপ নেবে এবং শেখ হাসিনার ঘোষিত দেশে ফেরার পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—এসব বিষয়ই এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঝটিকা মিছিলের পর ফেরার বার্তা আওয়ামী লীগের, পাল্টা মাঠে বিএনপি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ফের আলোচনায় এসেছে দলটির রাজনৈতিক তৎপরতা। এর মধ্যেই ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন। মাঠের কর্মসূচি ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন বক্তব্য মিলিয়ে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের আগে রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী আকস্মিক মিছিল বের করেন। এ সময় সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়।

এর এক সপ্তাহ পর ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই দিন কাফরুল থানার সামনে একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ২০ সেপ্টেম্বর কমলাপুর রেলস্টেশনে একটি ট্রেনের বগিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর বাড্ডা ও গুলশানে আবারও আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের খবর আসে।

ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতায় প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়েও। কারণ, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প সময়ের মধ্যে মিছিল করে দ্রুত সরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

পাল্টা কর্মসূচিতে বিএনপি

আওয়ামী লীগের এসব তৎপরতার প্রতিক্রিয়ায় মাঠে কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনগুলো।

২১ সেপ্টেম্বর বিএনপির যৌথসভায় বিভিন্ন ধরনের ‘অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল পৃথক কর্মসূচি পালন করে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। তবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন অবস্থানও দেখা গেছে।

দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার

দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের তৎপরতার পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য।

সেপ্টেম্বরে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং দেশে ফেরার বিষয়ে কথা বলেন তিনি। ২২ সেপ্টেম্বর এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশে ফিরে কারাবরণ করতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখার ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেন।

এর আগে জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

ফলে একদিকে দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগের ঝটিকা কর্মসূচি, অন্যদিকে দলটির সভাপতির দেশে ফেরার ঘোষণা—দুই ঘটনাই দলটির পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে আলোচনাকে আরও সামনে এনেছে।

সরকারের অবস্থান

আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থানও কঠোর।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যারা জড়িত, তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

২৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলার কথাও জানান তিনি।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আইনি অবস্থানেও পরিবর্তন

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার সঙ্গে দলটির বর্তমান আইনি অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধানকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে।

তবে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের অভিন্ন অবস্থান সব সময় দেখা যায়নি। কেউ দলটির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন, আবার কেউ অপরাধে জড়িত নন—এমন ব্যক্তিদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ও দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জাসদ কার্যালয়ে অভিযান

এর মধ্যেই শনিবার রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ।

ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, সেখানে আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জন জড়ো হয়েছিলেন। তাদের থানায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারা কী উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অর্থাৎ সেপ্টেম্বরজুড়ে আওয়ামী লীগের আকস্মিক মিছিল ও সহিংসতার অভিযোগ, বিএনপির পাল্টা কর্মসূচি, সরকারের কঠোর অবস্থান এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা—সব মিলিয়ে দলটির পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন সামনে এসেছে।

আওয়ামী লীগ বাস্তবে কীভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে, তাদের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো কী রূপ নেবে এবং শেখ হাসিনার ঘোষিত দেশে ফেরার পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—এসব বিষয়ই এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।