তেল আছে, তবু সংকট—দাম বাড়ানোর আগে সরবরাহে টান?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
দাম বাড়ানোর পরও বাজারে কাটছে না বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল মিলছে না। পরিবেশকদের কাছে বারবার চেয়েও সরবরাহ না পাওয়ায় অনেক দোকানিকে খোলা তেল বিক্রি করতে হচ্ছে।
এর মধ্যেই আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে পরিশোধন ও সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি খুচরা ব্যবসায়ীদের। তাদের অভিযোগ, নতুন করে দাম সমন্বয়ের আগে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে।
চলতি মাসের ২ তারিখে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। তবে এরপরও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত তেলের সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পরিবেশকদের কাছে চাহিদা জানালেও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে কোম্পানিগুলো বিক্রয় কমিশনও কমিয়ে দিয়েছে। ফলে একদিকে পণ্য সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে দাম—দুই দিক থেকেই চাপে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
সরবরাহের ঘাটতির কারণে অনেক দোকানি বোতলজাত তেলের পরিবর্তে খোলা সয়াবিন বিক্রি করছেন। এতে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বাড়তি দামে তেল কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
তবে সরবরাহ কমানোর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করছে না ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো। তাদের দাবি, কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামে তেল আমদানি করতে হচ্ছে। কিন্তু দেশের বাজারে সেই অনুপাতে দাম সমন্বয় হয়নি। ফলে লোকসান কমাতে আমদানি ও সরবরাহ কিছুটা কমাতে হয়েছে।
টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতহার তাসলিম বলেন, ‘বেশি দামে আমাদের আমদানি করতে হচ্ছে। তাই অনেকে আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।’
কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে মূল্য সমন্বয়ের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সরকারের অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন করে দাম নির্ধারণ বা সমন্বয় করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে বাজারে সংকট থাকলেও কার্যকর সরকারি নজরদারি না থাকার অভিযোগ তুলেছেন ক্রেতারা। তাদের প্রশ্ন, নির্ধারিত দাম কার্যকর না থাকলে এবং চাহিদা অনুযায়ী তেল না মিললে বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা কোথায়?
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ৩০ লাখ টন। এই বিশাল বাজারের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র ছয়টি কোম্পানি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের আমদানি ও সরবরাহের সিদ্ধান্তের ওপরই বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভরশীল।
এখন প্রশ্ন উঠছে—আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতেই কি সরবরাহ কমানো হয়েছে, নাকি নতুন করে দাম বাড়ানোর আগে বাজারে তৈরি হচ্ছে সংকট? এর উত্তর নির্ভর করছে সরকারি তদারকি ও মূল্য সমন্বয়ের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

























