কিশোর গ্যাং দমনে সাঁড়াশি অভিযান

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার ১৮ উপজেলায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। বুধবার রাতভর একযোগে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের ৬২৪ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও ১৭৩ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর-তরুণদের মধ্যে ছিনতাই, মারামারি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা এলাকায় সর্বোচ্চ ৮২ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বুড়িচংয়ে ৬২, দাউদকান্দিতে ৬০, লাকসামে ৫২, সদর দক্ষিণে ৪৬, লালমাইয়ে ৪২, মনোহরগঞ্জে ৪৩, চৌদ্দগ্রামে ৩৮, চান্দিনায় ৩০, ব্রাহ্মণপাড়ায় ২৬, তিতাসে ২৬, দেবিদ্বারে ২১, হোমনায় ২০, নাঙ্গলকোটে ১৭, মুরাদনগরে ১৭, বাঙ্গরাবাজারে ১৭, বরুড়ায় ১৫ এবং মেঘনায় ১০ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। যাচাই-বাছাইয়ের পর যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তাদের মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযানের মধ্যে দাউদকান্দি থানায় আটক ১৭ জন কিশোর গ্যাং সদস্য থানা কক্ষের দরজা-জানালা ও চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল হাফিজ বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকেই কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, সামাজিক অবক্ষয়, সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে থাকা এবং পরিবারের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া গেলে অপরাধপ্রবণতা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত তৎপরতাও প্রয়োজন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর বয়সী ছেলেদের একটি অংশ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি, ছিনতাই ও মারামারিসহ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের নির্দেশে ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “আটকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই শিক্ষার্থী। এটা কিছুতেই কাম্য নয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর পড়ার টেবিলে দেখতে চাই।” কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার কথাও জানান তিনি।





















