ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রয়াত ও অসুস্থ চার সাংবাদিকের পরিবারের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন জামিনের পরও মুক্তি নেই, জেলগেটে ফের গ্রেফতার নিয়ে উঠছে আইনি প্রশ্ন সাগরপথে মিয়ানমারে যাচ্ছিল ৪৮ টন ইউরিয়া সার, কোস্ট গার্ডের অভিযানে জব্দ জবাবদিহিতা ছাড়া রাষ্ট্র বিপথগামী হতে বাধ্য: জহির উদ্দিন স্বপন সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুতে ঝরেছে ১১৪ প্রাণ, একদিনে হাসপাতালে ৯৫৫ রোগী সাবেক স্ত্রীর বিয়ে, ছেলেকে হত্যার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার মহেশপুরে চার মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার জ্বালানির ধাক্কায় সবজির বাজারে আগুন, কেজিতে বাড়ল ১০-১৫ টাকা জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন সংসদে এক রূপ, বাইরে আরেক রূপ—বিরোধী দলকে নিয়ে এ্যানির মন্তব্য

জামিনের পরও মুক্তি নেই, জেলগেটে ফের গ্রেফতার নিয়ে উঠছে আইনি প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামিন পাওয়ার পরও কারাগার থেকে বের হতে পারেননি অনেক আসামি। কখনো কারাগারের ভেতর থেকেই নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো, আবার কখনো জেলগেট পার হওয়ার আগেই ফের আটক—এমন অভিযোগ ঘিরে বাংলাদেশে আইনি প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২৫ সালের মার্চে ঢাকা থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আহসান আহমেদ (ছদ্মনাম)। তার বিরুদ্ধে থাকা দুটি মামলায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। ছয় মাস পর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা আহসান শেষ মুহূর্তে জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলা যুক্ত হয়েছে।

আহসান বলেন, জামিনের পর মুক্তির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কারাগারের এক কর্মকর্তা তাকে নতুন মামলার কাগজ দেন। সেখানে অন্য একটি থানায় করা মামলার তথ্য দেখতে পান তিনি, যে মামলার বিষয়ে আগে তিনি কিছুই জানতেন না।

এরপর আরও কয়েক দফা জামিন নিলেও প্রতিবারই নতুন মামলায় তাকে আটক দেখানো হয় বলে দাবি করেন আহসান। শেষ পর্যন্ত পঞ্চমবারের চেষ্টায় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। তার দাবি, প্রথম জামিনের সময়ই মুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কারণে দেড় বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে।

জেলগেট থেকে ফের আটক হওয়ার অভিযোগ

শুধু কারাগারের ভেতরে নতুন মামলা নয়, জামিনের পর জেলগেট থেকেই আটক হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

গত বছর নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হওয়া আশিকুর রহমান (ছদ্মনাম) ৭২ দিন পর নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান। তবে কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় তিনি জানতে পারেন, তাকে আবার আটক করা হচ্ছে।

আশিকুরের ভাষ্য, কারাগারের গেট পার হওয়ার আগেই সাদা পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে পরিচয় নিশ্চিত করে ধরে নিয়ে যায়। কারণ জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হচ্ছে।

শ্যোন অ্যারেস্ট নিয়ে বিতর্ক

আইনজীবীদের একটি অংশ বলছে, জামিন পাওয়ার পর শুধু মুক্তি ঠেকানোর জন্য শ্যোন অ্যারেস্টের ব্যবহার আইনসম্মত নয়।

সাবেক সিনিয়র জেলা জজ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শাহজাহানের মতে, জামিন হয়ে যাওয়ার পর জেলগেটে গ্রেফতার দেখানোর সুযোগ নেই। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক আটক হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর এবং অন্য কোনো মামলায় বৈধ আটকাদেশ না থাকলে তাকে মুক্তি দেওয়ার কথা।

আইনে কী আছে

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ সালের ১৬৭(এ) ধারায় অন্য মামলায় আটক থাকা ব্যক্তিকে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত আদালতের অনুমোদন, মামলার নথি উপস্থাপন এবং আসামির শুনানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জামিন পাওয়ার পর মুক্তি ঠেকাতে এই বিধান ব্যবহার করার সুযোগ সীমিত।

নতুন মামলায় আটকের অভিযোগ

সাম্প্রতিক সময়েও জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলায় আটকের অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়ার করিম প্রামাণিকসহ আটজনের ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

তাদের দাবি, একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে বের হওয়ার আগেই তাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা করা হয় এবং ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

তবে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাকির হোসেন কারাগারের ভেতর থেকে আটকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কারাগারের গেট থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।

জামিনের পর ফের গ্রেফতারের এই প্রক্রিয়া নিয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না হলে বিচারিক সুরক্ষা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জামিনের পরও মুক্তি নেই, জেলগেটে ফের গ্রেফতার নিয়ে উঠছে আইনি প্রশ্ন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামিন পাওয়ার পরও কারাগার থেকে বের হতে পারেননি অনেক আসামি। কখনো কারাগারের ভেতর থেকেই নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো, আবার কখনো জেলগেট পার হওয়ার আগেই ফের আটক—এমন অভিযোগ ঘিরে বাংলাদেশে আইনি প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২৫ সালের মার্চে ঢাকা থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আহসান আহমেদ (ছদ্মনাম)। তার বিরুদ্ধে থাকা দুটি মামলায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। ছয় মাস পর মুক্তির অপেক্ষায় থাকা আহসান শেষ মুহূর্তে জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলা যুক্ত হয়েছে।

আহসান বলেন, জামিনের পর মুক্তির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কারাগারের এক কর্মকর্তা তাকে নতুন মামলার কাগজ দেন। সেখানে অন্য একটি থানায় করা মামলার তথ্য দেখতে পান তিনি, যে মামলার বিষয়ে আগে তিনি কিছুই জানতেন না।

এরপর আরও কয়েক দফা জামিন নিলেও প্রতিবারই নতুন মামলায় তাকে আটক দেখানো হয় বলে দাবি করেন আহসান। শেষ পর্যন্ত পঞ্চমবারের চেষ্টায় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। তার দাবি, প্রথম জামিনের সময়ই মুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কারণে দেড় বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে।

জেলগেট থেকে ফের আটক হওয়ার অভিযোগ

শুধু কারাগারের ভেতরে নতুন মামলা নয়, জামিনের পর জেলগেট থেকেই আটক হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

গত বছর নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হওয়া আশিকুর রহমান (ছদ্মনাম) ৭২ দিন পর নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান। তবে কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় তিনি জানতে পারেন, তাকে আবার আটক করা হচ্ছে।

আশিকুরের ভাষ্য, কারাগারের গেট পার হওয়ার আগেই সাদা পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে পরিচয় নিশ্চিত করে ধরে নিয়ে যায়। কারণ জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হচ্ছে।

শ্যোন অ্যারেস্ট নিয়ে বিতর্ক

আইনজীবীদের একটি অংশ বলছে, জামিন পাওয়ার পর শুধু মুক্তি ঠেকানোর জন্য শ্যোন অ্যারেস্টের ব্যবহার আইনসম্মত নয়।

সাবেক সিনিয়র জেলা জজ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শাহজাহানের মতে, জামিন হয়ে যাওয়ার পর জেলগেটে গ্রেফতার দেখানোর সুযোগ নেই। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক আটক হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর এবং অন্য কোনো মামলায় বৈধ আটকাদেশ না থাকলে তাকে মুক্তি দেওয়ার কথা।

আইনে কী আছে

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ সালের ১৬৭(এ) ধারায় অন্য মামলায় আটক থাকা ব্যক্তিকে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত আদালতের অনুমোদন, মামলার নথি উপস্থাপন এবং আসামির শুনানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জামিন পাওয়ার পর মুক্তি ঠেকাতে এই বিধান ব্যবহার করার সুযোগ সীমিত।

নতুন মামলায় আটকের অভিযোগ

সাম্প্রতিক সময়েও জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলায় আটকের অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়ার করিম প্রামাণিকসহ আটজনের ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

তাদের দাবি, একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে বের হওয়ার আগেই তাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা করা হয় এবং ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

তবে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাকির হোসেন কারাগারের ভেতর থেকে আটকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কারাগারের গেট থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।

জামিনের পর ফের গ্রেফতারের এই প্রক্রিয়া নিয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না হলে বিচারিক সুরক্ষা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।