ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতিসংঘে ভাষণে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী রায় না দিয়েও স্থায়ী বিচারপতি! প্রথা ভাঙার নেপথ্যে কে? জাতিসংঘে তারেক রহমান: ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়তে চায় সরকার ক্যান্টনমেন্ট থানার নতুন ওসি গিয়াস উদ্দিন ১০০০ গোলের মাইলফলকে চোখ রোনাল্ডোর, অবসর ভাবনা এখন অতীত চুল কাটার পর ঘাড় মটকান? ‘আরাম’ ডেকে আনতে পারে স্ট্রোকও বিএনপির সঙ্গে বেঈমানি করা নেতাদের দলে ঠাঁই হবে না : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান সাগর উত্তাল, সুন্দরবন ও উপকূলে আশ্রয় নিয়েছে শত শত ফিশিং ট্রলার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রায় না দিয়েও স্থায়ী বিচারপতি! প্রথা ভাঙার নেপথ্যে কে?

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংবিধানের প্রথা ও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিয়ম ভঙ্গ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা পূরণের আগেই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ২২ জন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় উচ্চ আদালত ও আইনাঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মেয়াদে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।

​সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত মেয়াদের আগেই তড়িঘড়ি করে স্থায়ী নিয়োগ এবং নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনের কোনো লিখিত রায় না থাকা সত্ত্বেও স্থায়ীকরণ উচ্চ আদালতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।

​প্রথা বনাম বাস্তব চিত্র: ​বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে, উচ্চ আদালতে অনধিক দুই বছরের জন্য অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। সাধারণত এই দুই বছর মেয়াদে তাঁদের বিচারকার্যক্রমের দক্ষতা, কাজের গতি ও আচার-আচরণ পর্যালোচনা করা হয়। পরবর্তীতে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁদের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

​উচ্চ আদালতের একাধিক কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সাথে কথা বলে জানা যায়, একজন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী হিসেবে সুপারিশ করার আগে অন্তত ৫টি পূর্ণাঙ্গ রায় দিতে হয়। প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারকগণ সেই রায়গুলো পর্যালোচনা করে সন্তোষজনক মনে করলে স্থায়ীকরণের সুপারিশ করেন। দক্ষতা উপযুক্ত না মনে হলে মেয়াদ আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হতে পারে অথবা বাদ পড়ার বিধানও রয়েছে। দুই বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী করার নজির অতীতে দেখা যায়নি।

​প্রেক্ষাপট ও সময়ক্রম: ​৯ অক্টোবর, ২০২৪: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় হাইকোর্ট বিভাগে ২৩ জন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ পান।

​১১ নভেম্বর, ২০২৫: মাত্র ১ বছর ১ মাসের মাথায় ২৩ জনের মধ্যে ২২ জনকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

​২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: বাদ থাকা বাকি ১ জন বিচারপতির মেয়াদ প্রাথমিক বর্ধিতকরণ শেষে স্থায়ী করা হয়।

​বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া:
​সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, এক বছরের মাথায় স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ২২ জনের মধ্যে এমন বিচারপতিও রয়েছেন, যারা স্থায়ীকরণের আগ পর্যন্ত একটিও পূর্ণাঙ্গ রায় লেখেননি।
​সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, যেখানে সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে দুই বছরের পর্যবেক্ষণের কথা বলা রয়েছে, সেখানে কিসের ভিত্তিতে এবং কোন মানদণ্ড বিবেচনা করে এক বছরের মাথায় তাঁদের স্থায়ী করা হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কোনো রায় না লিখেও স্থায়ীকরণ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিচার বিভাগে চরম অসন্তোষ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

​আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, প্রথা ভেঙে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ বা রিট আবেদন গড়াতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রায় না দিয়েও স্থায়ী বিচারপতি! প্রথা ভাঙার নেপথ্যে কে?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংবিধানের প্রথা ও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিয়ম ভঙ্গ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা পূরণের আগেই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ২২ জন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় উচ্চ আদালত ও আইনাঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মেয়াদে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।

​সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত মেয়াদের আগেই তড়িঘড়ি করে স্থায়ী নিয়োগ এবং নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনের কোনো লিখিত রায় না থাকা সত্ত্বেও স্থায়ীকরণ উচ্চ আদালতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।

​প্রথা বনাম বাস্তব চিত্র: ​বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে, উচ্চ আদালতে অনধিক দুই বছরের জন্য অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। সাধারণত এই দুই বছর মেয়াদে তাঁদের বিচারকার্যক্রমের দক্ষতা, কাজের গতি ও আচার-আচরণ পর্যালোচনা করা হয়। পরবর্তীতে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁদের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

​উচ্চ আদালতের একাধিক কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সাথে কথা বলে জানা যায়, একজন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী হিসেবে সুপারিশ করার আগে অন্তত ৫টি পূর্ণাঙ্গ রায় দিতে হয়। প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারকগণ সেই রায়গুলো পর্যালোচনা করে সন্তোষজনক মনে করলে স্থায়ীকরণের সুপারিশ করেন। দক্ষতা উপযুক্ত না মনে হলে মেয়াদ আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হতে পারে অথবা বাদ পড়ার বিধানও রয়েছে। দুই বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী করার নজির অতীতে দেখা যায়নি।

​প্রেক্ষাপট ও সময়ক্রম: ​৯ অক্টোবর, ২০২৪: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় হাইকোর্ট বিভাগে ২৩ জন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ পান।

​১১ নভেম্বর, ২০২৫: মাত্র ১ বছর ১ মাসের মাথায় ২৩ জনের মধ্যে ২২ জনকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

​২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: বাদ থাকা বাকি ১ জন বিচারপতির মেয়াদ প্রাথমিক বর্ধিতকরণ শেষে স্থায়ী করা হয়।

​বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া:
​সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, এক বছরের মাথায় স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ২২ জনের মধ্যে এমন বিচারপতিও রয়েছেন, যারা স্থায়ীকরণের আগ পর্যন্ত একটিও পূর্ণাঙ্গ রায় লেখেননি।
​সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, যেখানে সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে দুই বছরের পর্যবেক্ষণের কথা বলা রয়েছে, সেখানে কিসের ভিত্তিতে এবং কোন মানদণ্ড বিবেচনা করে এক বছরের মাথায় তাঁদের স্থায়ী করা হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কোনো রায় না লিখেও স্থায়ীকরণ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিচার বিভাগে চরম অসন্তোষ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

​আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, প্রথা ভেঙে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ বা রিট আবেদন গড়াতে পারে।